ভারত থেকে আসা গরুর ওপর বাংলাদেশ নির্ভর করে না বলে জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বরং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘গরু পাচারের ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।

আমি নিশ্চিত করে বলছি, পাচার বন্ধ হবে। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। আমি আলোচনা করবও। তবে ভারতকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’

ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে গরু পাচারের অভিযোগে এই মুহূর্ত ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি সরগরম। এই আবহেই সোমবার ভারতে আসার কথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর।

তার কয়েক ঘণ্টা আগে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গরু পাচার নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন হাসিনা। তিনি বেশ স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘ভারতের গরুর ওপর আমরা তেমন নির্ভর করি না। আমাদের দেশের নিজস্ব গরু রয়েছে। আমরা নিজেরাই গরুর জোগান বৃদ্ধি করছি। কারণ (দেশের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের জন্য) তা জরুরি।’

অর্থাৎ পাচারের গরুর ওপর তার দেশ যে নির্ভর করে না তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে যে গরু পাচার হচ্ছে তা মেনেও নিয়েছেন তিনি। ওই সাক্ষাৎকারেই বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেছেন, ‘সীমান্তে গরু পাচার এখন কিছুটা কমেছে। কিন্তু তবু কিছু বিচ্ছিন্ন এখনও ঘটনা ঘটছে। যা বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।’ এমনকি, দু’দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীই নিজেদের মধ্যে নিয়মিত কথা বলছে বলেও জানিয়েছেন হাসিনা।

গরু পাচার-কাণ্ডে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলের নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারী কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই।

গরু পাচারের ঘটনায় আর কে কে যুক্ত তা জানতে তদন্তও চালাচ্ছে তারা। ভারতীয় সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনাও দু’দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর তৎপরতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘ওরা একসঙ্গে বসছে। কোনো ঘটনা ঘটলে ফ্ল্যাগ মিটিং করছে। আলোচনা করছে। আমি নিশ্চিত করছি এটা কমবে। আর এটা হওয়াও উচিত নয়।’