র‍্যাব এবং এর সাবেক ডিজি ও বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদসহ সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা র‌্যাবের কর্মকাণ্ডে কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে মন্তব্য করেছেন এলিট ফোর্সটির বিদায়ী মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিদায়ী মতবিনিময় সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‌্যাব ছাড়াও বাহিনীটির সাবেক ও বর্তমান ছয় কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে বাংলাদেশ সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে আসছে। র‌্যাবের বিদায়ী মহাপরিচালক বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সংশোধনের চেষ্টা চলছে।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, র‌্যাব সমসময় আইন মেনে কাজ করে। অপরাধী আক্রমণ করলে আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব সদস্যরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়।
র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, র‌্যাব মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে বলেই মাদক নিয়ন্ত্রণে এসেছে। জঙ্গি বিস্তার রোধে আমাদের জোরাল অভিযানের কারণে উল্লেখযোগ্য জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। আমার সময়ে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমার দুই বছর দায়িত্ব পালনকালে মাদক চোরচালান বন্ধে অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। এই সময়ে ৩৬ হাজার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তিন হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে।’

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ তা বৈশ্বিক যুদ্ধ। সারা বিশ্বিই মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। কারাগারে থাকা বন্দিদের মধ্যে মাদক মামলার আসামিই বেশি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। মাদকের সমস্যা একটি সামাজিক সমস্যা। সবাইকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। আমার সন্তানের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া আমার দায়িত্ব, আমাদের শিক্ষকের দায়িত্ব রয়েছে, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা সেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো। মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে নেই, এটা বলার সুযোগ নেই। আমরা যখনই খবর পাই, তখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’

ডিজি বলেন, ‘মাদক অভিযানের সময়ে আমরা আইন অনুযায় দায়িত্ব পালন করি। আইনের বাইরে বিন্দুমাত্র কোনও কিছু প্রয়োগ করি না। প্রচলিত আইন অনুযায় ব্যবস্থা নিই। কোনও ব্যক্তি একটু ধাক্কা দিলো, আর আমাদের সদস্যরা গুলি করে দেবে, বিষয়টা এমন না। যখন যেভাবে যা প্রয়োজন, সেভাবেই প্রচলিত আইনের মধ্যে থেকে কাজ করি।’

করোনাকালে র‌্যাবের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘র‌্যাব ডিজি হিসেবে বৈশ্বিক মহামারির সময় দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাদের করোনা আক্রান্ত র‌্যাব সদস্যদের জন্য ডাটাবেজ, অত্যাধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। বিপুল র‌্যাব সদস্য করোনা আক্রান্ত হলেও আমরা মনোবল হারাইনি। করোনায় মানবিকতার চরম বিপর্যয় ঘটেছিল। এসময় র‌্যাব করোনা আক্রান্ত মানুষদের সেবায় এগিয়ে গিয়েছে। র‌্যাবের হেলিকপ্টারে দুর্গম এলাকা থেকে মানুষকে উদ্ধার করে ঢাকায় এনে চিকিৎসা করিয়েছি।’

আসন্ন নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা এবং ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে কাজ করার যে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে কীভাবে পদক্ষেপ নেবেন জানতে চাইলে আইজিপির দায়িত্ব পাওয়া আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পুলিশ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে। তাদের নির্দেশনা মেনে পুলিশ চলবে। এ বিষয়ে বাহিনীর দীর্ঘদিনের যে অনুশীলন তা মেনে চলব। এবং সামনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করব।’

২০২০ সালের ৮ এপ্রিল র‌্যাবের ডিজি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব নেবেন।