
বিএনপির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা প্রতিশোধ নিতে যাইনি। দেশের উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছি। তিনি বলেন, বিএনপি মানেই হচ্ছে অত্যাচার–নির্যাতন আর দেশে দুঃশাসন, লুটপাত, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ বাংলা ভাই—এটাই।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোট নারীর ক্ষমতায়নেই বিশ্বাস করে না। আমরা নারী উন্নয়ন নীতি করলাম। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেটা স্থগিত করে দিল। এমন কিছু পরিবর্তন নিয়ে এল যে নারীর কোনো ক্ষমতাই থাকে না।
বিএনপির কার্যক্রম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের নারীদের যেভাবে অত্যাচার করেছে, মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, অগ্নিসংযোগ করেছে। বিএনপি-জামাত যখন ক্ষমতায় এল, মনে হলো যেন সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, সেই অত্যাচার ও গণহত্যার পুনরাবৃত্তি।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি, আবার সেই দুঃশাসন। আমরা আমাদের আওয়ামী লীগ অফিসে যেতে পারতাম না। কোনো রাজনীতি করার সুযোগ ছিল না। একদিকে পুলিশ বাহিনী, অন্যদিকে ছাত্রদল–বিএনপির সেই গুন্ডা বাহিনী দিয়ে অকথ্য নির্যাতন করেছে মেয়েদের ওপর। তারা যেভাবে নির্যাতন করেছে, তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। সে অন্তঃসত্ত্বা হোক, সদ্যপ্রসূতাই হোক, কেউ তাদের কাছ থেকে রেহাই পায়নি। রাস্তায় ফেলে কাপড় ছিঁড়ে চুল টেনে মেরে অত্যাচার–নির্যাতন করা হয়েছে। অত্যাচার ছাড়া দেশকে কিছুই দিতে পারেনি।
২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, আজ বিএনপি নির্বাচন নিয়ে কথা বলে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোনোভাবেই কী ওই নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠেছে? উঠে নাই। কেউ কোনো প্রশ্ন করে নাই। ওই নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি তখন কয়টা আসন পেয়েছিল? বিএনপি নেতারা হয়তো সেটা ভুলেই গেছে। বিএনপি মাত্র ৩০ আসন। আর জাতীয় পার্টি পেয়েছিল ২৭টি আসন। তিন আসন বেশি ছিল বলেই খালেদা জিয়া বিরোধী দলের নেত্রী হতে পেরেছিল। বিএনপির নেতাদের জিজ্ঞেস করি, এত যে লাফালাফি কিসের জন্য? আপনারা কী নিয়ে লাফান?
২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা মানুষ পুড়িয়ে মারার আন্দোলন ডাকল জানিয়ে তিনি বলেন, তখন আবার শুরু করল অগ্নিসন্ত্রাস। ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে তাদের অগ্নিসন্ত্রাসে তিন হাজারের বেশি মানুষকে পুড়িয়েছে। হাজার গাড়ি-লঞ্চ পুড়িয়েছে, শিক্ষার্থীদের পুড়িয়েছে। খালেদা জিয়ার অগ্নিসন্ত্রাসের কারণে কত মানুষের মুখ পুড়ে বিকৃত হয়েছে। তারা এমনই তাণ্ডব চালিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ সামনের দিকে যায়, উন্নয়নের ধারা আরো সামনের দিকে অগ্রসর হয়। আর বিএনপি এলে দেশটা চলে পেছনের দিকে। উন্নয়ন শেষ হয়ে যায় এবং উন্নয়ন শুধু তাদেরই হয়। হাওয়া ভবন খুলে খাওয়া ভবন খুলে শুধু খাই খাই করে, দেশের জন্য কিছু করতে পারে না। যার জন্য দেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশ নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ওই অগ্নিসন্ত্রাসী ও ভুয়া ভোটার তালিকায় করা নির্বাচনকারী বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ১৯৯৬ সালে বিএনপি ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল। মানুষ সেই নির্বাচন শুধু প্রত্যাখ্যানই করেনি, এমন আন্দোলন করেছিল যে খালেদা জিয়া দেড় মাসের মধ্যে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.