রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক প্রগতি সরণী। এই সড়কের রামপুরা ব্রিজ-সংলগ্ন আফতাবনগর প্রবেশের মুখে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ও জনসাধারণের পারাপারের সুবিধার্থে চার কোটি টাকা ব্যয় করে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

বহুল প্রত্যাশিত এই ফুট ওভারব্রিজটি ২০২৪ সালের আগেই চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

আজ বুধবার (১৪ জুন) রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের অডিটরিয়ামে আফতাবনগর-মেরুল সড়কে ইস্ট ওয়েস্ট ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনে করি, সিটি করপোরেশন ও আফতাবনগরবাসীর জন্য আজকে একটি ঐতিহাসিক দিন। কারণ, অনেক প্রত্যাশিত একটি ফুট ওভারব্রিজ হতে যাচ্ছে। এর জন্য এলাকাবাসীর বহুবার সিটি করপোরেশনে গিয়েছেন। পাশাপাশি এখানে একটি ফুট ওভারব্রিজ ছাত্র-ছাত্রীদের বহুদিনের দাবি ছিল।’

বনশ্রী প্রবেশের মুখে বা রামপুরা ব্রিজের সামনে কেন ফুট ওভারব্রিজ করা সম্ভব হয়নি এ বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় চিন্তা করেছি আফতাবনগর ও মেরুলের কোনো জায়গায় এই ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়। আবার অনেকেই বলেছিলেন রামপুরা ব্রিজের মোড়ে এই ফুট ওভারব্রিজটা করা যায় কিনা। পরে এটা নিয়ে আমরা অনেক বার ডিজাইন করি। যাতে করে রামপুরা, বনশ্রী, হাতিরঝিল ও আফতাবনগরের জনসাধারণ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন। কিন্তু ইটিপির মাধ্যমে পরিকল্পনা হয় বনশ্রীর পাশ দিয়ে একটি এক্সপ্রেসওয়ে হবে, যা হাতিরঝিল ক্রস করবে। এই কারণে পরবর্তীতে আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, এই রাস্তায় ফুট ওভার ব্রিজ করা যাবে না।

মূলত, এ কারণেই আমরা ১১ মাস পিছিয়ে গিয়েছি। না হলে এত দিনে এই ব্রিজটি ব্যবহার করা যেত।’ ব্রিজের নাম ‘আফতাবনগর-মেরুল’ না দিয়ে কেন ‘ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ফুট ওভারব্রিজ’ দেওয়া হলো এ বিষয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি সকাল বেলা এসে দেখছিলাম এই ফুট ওভারব্রিজের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আফতাবনগর-মেরুল ফুট ওভারব্রিজ’।

তখন আমি চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে বললাম, এই নাম কেন দিয়েছেন? তখন তিনি আমাকে বললেন, এই ব্রিজ করতে অনেক টাকা ব্যয় হবে, কিন্তু এটার মেনটেনেন্স (পরিচর্যা) যদি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি না করে তাহলে কি হবে? তাই আমি বলব, প্রতিটি কাজে কিছু চাওয়া পাওয়ার বিষয় থাকে।

তিনি বলেন, এই শহরে অনেক কিছুই হয় কিন্তু আমরা কেউ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে চাই না। তাই ইস্ট ওয়েস্ট ভার্সিটিকে আমি বলেছি, আপনারা যদি এই ব্রিজের মেনটেনেন্স বা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেন তাহলে এই ফুটওভার ব্রিজের নাম ‘ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ফুট ওভার ব্রিজ’ রাখা হবে।

আপনাদের (ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষ) মনে রাখতে হবে এই ফুটওভার ব্রিজের ব্যবহারকারী কিন্তু অনেক বেশি। তাই প্রথমত মেইনটেনেন্সটা খুব ভালো করে করতে হবে। আর এই ব্রিজটা যদি দেখতে সুন্দর দেখায় তাহলে ইউনিভার্সিটির নাম উজ্জ্বল হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মুখ্য উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. শহিদুল হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনুলসহ উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা।