বেনাপোল পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আহাদুজ্জামান বকুলের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও তার বাড়ি ঘর ভাংচুর করে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকালে বেনাপোল পেঁচোর বাঁওড় অফিস ও সাদিপুরস্থ তার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পৌর কাউন্সিলর আহাদুজ্জামান বকুলের পরিবার সহ ৫ জন আহত ও নগদ টাকা এবং স্বর্ণালোংকার লুটপাট সহ আনুমানিক ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করেছে হামলাকারীরা।

এ ঘটনায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৮-১০ জনের নামে বেনাপোল পোর্ট থানায় এজাহার দায়ের করেছেন আহাদুজ্জামান বকুল। ভুক্তভোগী আহাদুজ্জামান বেনাপোল পোর্ট থানার সাদিপুর গ্রামের মৃত আল্লারাখার ছেলে।

বেনাপোল পোর্ট থানায় দায়ের করা এজাহারে আহাদুজ্জামান বকুল উল্লেখ করেন, গত ১১ ফব্রুয়ারি বিকালে বেনাপোল পেঁচোর বাঁওড়ে তার অফিসে ছিলেন। এসময় বাঁওড় পাহারাদার হিসাবে মাসুদ শেখ ও আব্দুল আলিম সেখানে কাজ করছিলো।

বিকাল আনুমানিক ৪ টা ৩০ মিনিটের সময় সেখানে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় ধারালো অস্ত্র লাঠিসোটা ও আগ্নেয় অস্ত্র সহ আচমকা প্রবেশ করে বাঁওড়ের স্পিড বোট, নৌকা এবং অফিস ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এসব কাজে বাঁওড়ের পাহারাদাররা বাঁধা দিলে মাসুদ শেখ ও আব্দুল আলিমকে বেধড়ক মারপিট করে আহত করে হামলাকারীরা। এসময় আগ্নেয় অস্ত্র দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার জন্য গুলি করে তারা। এসময় স্থানীয়দের ধাওয়ায় সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

একই দিন বিকাল সাড়ে ৫টার সময় বেনাপোল সাদিপুরস্থ আমার বাড়িতে একই সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল যোগে এসে বাড়ির ভিতর ও বাহিরে ব্যাপক হারে ভাংচুর করে মাছ বিক্রির নগদ ৯ লাখ টাকা এবং ১৪ ভোরি স্বর্ণালোংকার লুটপাট করে পারিবারের সকল সদস্যকে বেধড়ক মারপিট করে মারাত্মক ভাবে আহত করে।

এসময় আশেপাশের লোকজন এগেয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা আমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি ধামকি দিয়ে দুটো মোটরসাইকেল ফেলে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী আহাদুজ্জামান বকুল সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের সাথে আমার পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। তারা আমার টাকা পয়সা আসবাবপত্র স্বর্ণালোংকার সব কিছু লুটে নিয়ে এখন প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে। পরিবার পরিজন নিয়ে বর্তমান আমি প্রাণ সংশয়ে আছি। আনিত বিষয়টি দ্রুত সঠিক তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন ভূইয়া বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদেরকে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।