
ফেসবুকে প্রেমের সূত্র ধরে বরিশালে এসে জাভেদ খান (২৯) নামের এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১২ অক্টোবর) ভোরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ জাভেদ খানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মেডিকেলের মর্গে পাঠিয়েছে।
জাভেদ খান ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহানপুর এলাকার বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ফেসবুকের সূত্র ধরে বরিশাল নগরীর ভাটিখানা এলাকার সাহাদৎ ইসলামের মেয়ে ফাতেমা জহুরা খুশির সঙ্গে ভারতের সাহানপুর এলাকার জাভেদ খানের পরিচয় হয়।
একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে খুশির সঙ্গে জাভেদ খানের প্রেমের সম্পর্ক আরো গভীর হয়। খুশিকে বিয়ের উদ্দেশ্য গত ৮ অক্টোবর ভারত থেকে ঢাকার আন্তর্জাতিক শাহজালাল বিমান বন্দরে পৌঁছান জাভেদ খান। পরদিন ৯ অক্টোবর ঢাকা থেকে বরিশালে আসেন।
এরপর তিনি নগরীর কাঠপট্টি এলাকার এথেনা নামের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। ওই দিন রাতে তিনি অসুস্থ বোধ করলে খুশির পরিবারের সদস্যদের জানালে পরদিন নগরীর একটি ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দেখানো হয় জাভেদ খানকে।
চিকিৎসক তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলে ওই দিনই হাসপাতালে ভর্তি হন জাভেদ খান। ভোরে তার মৃত্যু হয়। পরে খুশি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাভেদ খানের মৃত্যুর বিষয়টি তার অভিভাবকদের মোবাইলের মাধ্যমে জানানো হয়।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, ভারতের নাগরিক জাভেদ খানকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় হৃদরোগ ধরা পড়ায় তাকে কার্ডিওলজি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরমার্শ দেওয়া হয়েছিল। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা লোকজন জাভেদ খানকে ভোরে ঢাকা হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিছুক্ষণ পর তারা আবার ফিরে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তবে এর আগেই জাভেদ খানের মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম জানান, যতদূর জানা গেছে জাভেদ খান নামে ভারতের ওই নাগরিক বরিশালে এসেছিলেন তার এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে। পর অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ জাভেদ খানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেডিকেলের মর্গে পাঠায়।
তিনি আরো বলেন, তার মৃত্যুর ব্যাপারে কোনো অভিযোগ ছিল না। এরপরও তিনি অন্য আরেকটি দেশের নাগরিক। সে কারণে পরবর্তীতে কোনো ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে না হয় সে জন্য জাভেদ খানের মরদেহের ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.