রাজশাহীতে ধর্ষণের শিকার হওয়া সেই শিশুর মাদ্রাসায় ভর্তি পুনর্বহাল করা হয়েছে। ভর্তি বাতিলের জন্য মাদ্রাসার পরিচালক শিশুটির অভিভাবকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সেই সঙ্গে শিশুটিকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

আজ সোমবার রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সরকারের শিশু সহায়তার হটলাইন ১০৯৮ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার হওয়ার কারণে শিশুটির ভর্তি বাতিল করে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় গত শুক্রবার প্রথম আলো অনলাইনসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল শিশুটির ভর্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারিয়া পেরেরা ও রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই মাদ্রাসায় যান। তাঁরা সেখানে শিশুটির বাবা ও মাকে ডেকে নেন। মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্য, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সবার সামনেই নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চান মাদ্রাসার পরিচালক। শিশুটির বাতিল করা ভর্তি পুনর্বহাল করেন সেই সঙ্গে শিশুটিকে তার মাদ্রাসায় বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দেবেন এবং প্রয়োজনে থাকা-খাওয়া বাবদ কোনো সহযোগিতার দরকার হলেও তিনি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারিয়া পেরেরা বলেন, সবার সামনে মাদ্রাসার পরিচালক শিশুটির অভিভাবকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং শিশুটিকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাদ্রাসাটির পরিচালক মাওলানা মোহা. হাবিবুল্লাহ বলেন, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। এটা নিয়ে তিনি আর বেশি কিছু বলতে চাননি।

তবে শিশুটির মা সংশয় প্রকাশ করেছেন যে তাঁর মেয়ের সঙ্গে হয়তো সুযোগ পেয়ে ওই মাদ্রাসার পরিচালক আবার দুর্ব্যবহার করবেন। প্রশাসনের লোকজন যাওয়ার কারণে তিনি ভর্তি বহাল করলেন, বেতনও নিতে যাচ্ছেন না। কিন্তু তাঁর ভয় করছে। তাঁর বাচ্চাকে ওই মাদ্রাসার পাঠানোর আর ইচ্ছা নেই। শিশুটির বাবা বলেন, শিশু সহায়তার হটলাইন থেকে মামলার ব্যাপারে এবং পরিবারের নানা বিষয়ে খবর নেওয়া হয়েছে। তাঁরা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

২০২০ সালের ২১ মার্চ প্রতিবেশী এক কিশোর শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরের দিন এই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার করে। পুলিশ অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। আসামিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে গ্রেপ্তার রয়েছে। এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে পুলিশ ডিএনএ টেস্ট করাবে।