স্বামীর মৃত্যুর পর অনেক কষ্টে দিনাতিপাত চলে মাবিয়া নামের এক বিধবার। অন্যের জমিতে তার বসত। সংসার জীবনে তিনি দুই সন্তানের জননী। এনজিওর সহযোগীতায় গরু এবং ছাগল লালন পালন করে বেশ ভালোই চলছিল। দুটো মেয়ের বিয়েও দিয়েছিলেন তিনি। মেয়েরা স্বামীর বাড়িতে বেশ সুখেই ছিলো।
আর এ-ই বিধবা কুড়ে ঘরে একাই বসবাস করতো । বড় মেয়ে লিখার কপালে যেন সুখ সইল না। হঠাৎই তার জীবনে নেমে এলো কালবৈশাখী ঝড়। ছয় মাসের সন্তান গর্ভে রেখে অসুস্থ অবস্থায় তার স্বামীর মৃত্যু হয়। আর লিখা হয়ে যান বিধবা। স্বামী হারিয়ে ছয় মাসের সন্তান গর্ভে নিয়ে রাজশাহীর মোহনপুরস্থ স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে ফের চলে আসে মায়ের কুঁড়ে ঘরে।
মা-মেয়ে দুই বিধবা অনেক কষ্টে বসবাস করে সেই কুঁড়ে ঘরে। কষ্টের এ সময়ে হঠাৎই আশার প্রদীপ হাতে মারিয়ার বাড়িতে আসে রানা আহমেদ (২৬) নামের স্থানীয় এক যুবক । দিতে চায় মা মেয়েকে সরকারি নানান সুবিধা আর হাতিয়ে নেয় ১৯৪০০/- টাকা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মাবিয়া জানান, গত ২ বছর আগে তেঁথুলিয়া নওদাপাড়া এলাকার আবুসামার ছেলে রানা আহমেদ আমার মেয়ের জন্য ১টি গর্ভবতী ভাতা ও ২টি ভিজিডি কার্ড এবং ৪ বস্তা ১০ টাকা কেজির চাল দিবে বলে মোট ১৯৪০০/- নিয়ে যায়। কিন্তু এই ২টি বছরে রানা মাত্র ১০ কেজি চাল দিয়েছে কোন কার্ড করে দিতে পারেনি। আর কোন টাকাও ফেরত দেয় নি। বর্তমানে আমি খুব অসহায় জীবন যাপন করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে রানা বলেন,টাকা নিয়েছি ঠিকই কিন্তুু কাজ করে দিতে না পারায় গত ২৫-২৬ দিন আগে তাকে টাকা ফেরত দিয়েছি।
বাউসা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক বলেন,এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। তবে সাধারণ জনগণ রানার মতো এ সকল ছেলেদের হাতে টাকা কেন দেয়? সে কি ইউনিয়নের মেম্বর, চেয়ারম্যান নাকি নেতা! জনগণ ভুল করলে দায় কে নিবে?
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.