
নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের দেবভোগ বাজারে গত ২২ শে সেপ্টেম্বর সন্ধায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় জয় বাবু বিশ্বাস নামে একজন গুরুতর আহত হন। আর এই ঘটনাকে পুঁজি করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পরশ বিশ্বাসকে জয়বাবু বিশ্বাসের উপর হামলার ইন্ধন দাতা হিসেবে প্রধান আসামী করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে দেবভোগ এলাকার সাধারণ জনগণ।
২ রা সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে পরশ বিশ্বাসের বাড়ি (দেবভোগ) উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে। এসময় তাঁরা অনতিবিলম্বে পুলিশি হয়রানি ও মিথ্যা মামলা থেকে মেম্বারের নাম প্রত্যাহারের দাবী জানান।
সরেজমিনে দেবভোগ মেম্বারের বাড়িতে উপস্থিত হলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বাজারের ব্যবসায়ী সমির বক্সি, কানসি রাম বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস,মিঠু বিশ্বাস সহ আরও অনেকে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তাদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন।
এলাকাবাসী জানান, গত ২২ শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দেবভোগ বাজারে পূর্বের শত্রুতার জের ধরে পাগল চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে জয় বাবু বিশ্বাসের সাথে একই এলাকার সমার বিশ্বাস ও তার ছেলে অভিজিত বিশ্বাসের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পরশ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন না।মেম্বারকে পরিকল্পিত ভাবে মামলার আসামি করা হয়েছে।
তাঁরা আরও জানান, পরশ চন্দ্র বিশ্বাস
২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে শেখহাটি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক (২ বার নির্বাচিত ) মেম্বার বাবুল রায়কে প্রায় ৬শত ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ী হন।
নড়াইল ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তির ঘনিষ্ঠ সাবেক মেম্বার বাবুল রায় পরশ বিশ্বাসের কাছে তার পরাজয় মেনে নিতে পারেননি।
বিভিন্ন ভাবে পরশকে ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে তিনি জয়বাবু বিশ্বাসের ঘটনায় মেম্বারের স্ত্রী নিলীমা বিশ্বাসকে ম্যানেজ করেছেন।ষড়যন্ত্রমুলক ভাবে মেম্বারকে মামলার আসামী করেছেন।আমরা দেবভোগ এলাকার মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং পরশ বিশ্বাসকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে পরশ বিশ্বাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মারামারির সময় আমি বাজারে ছিলাম না।
এখানে আমি কিছুই জানি না অথচ আমাকে হুকুমের আসামী করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেছে আহতের স্ত্রী নিলীমা বিশ্বাস। আমি ঘটনা শুনে হতবাক হয়েছি। আমি আরো হতবাক হয়েছি পুলিশ তদন্ত না করে এজাহার নেওয়ায়।ঘটনার পর প্রশাসনের এলাকায় এসে খোঁজ খবর নেওয়া উচিত ছিল, অথচ ঘটনার সুষ্ঠু কোন তদন্ত না করেই পুলিশ আমাকে হয়রানি করছে।
আমি নড়াইলের পুলিশ প্রশাসনের কাছে এলাকায় এসে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানাচ্ছি। আমি কোন অপরাধ করিনি।ষড়যন্ত্রমুলক ভাবে আমাকে আসামী করা হয়েছে।
মামলায় উল্লেখিত ঘটনাস্থল দেবভোগ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কৃষ্ণ ভদ্র বলেন, স্বৈরাচারের অনুসারীরা কিছু লেবাসধারী বিএনপির ঘাড়ে উঠে এলাকায় অস্থিরতা ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি করতে চাইছে। কিন্তু আমারা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সকল অন্যায়কে প্রতিহত করব।
এব্যাপারে অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের কাছে বেরিয়ে আসছে, মামলার সাজানো সাক্ষীর জবানবন্দি। স্বাক্ষী জানেই না ঘটনার কিছুই।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.