রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) ভিতরে লোহার খুুঁটি দিয়ে ছাদ ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। বাইরে বাঁশ দিয়ে ঠেকা দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন মিস্ত্রি বাঁশ কেটে দেয়াল ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গাইনি অপারেশন থিয়েটারের ভবন সংলগ্ন উত্তর পাশে ক্যান্সার সেন্টার ভবন করার জন্য গর্ত খোঁড়া হয়েছে। এর ফলে রামেক হাসপাতালের গাইনি ওটি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাত থেকে সেখানে অপারেশন বন্ধ আছে। এখন সার্জারি ওটিতে গাইনি অপারেশন চলছে। ফেটে যাওয়া এক তলা ভবনটি ১৯৬৩ সালে নির্মিত। ভবনের ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়া ঠেকাতে বাইরে থেকে বাঁশ দিয়ে ঠেকা দেওয়া হয়েছে। আর গাইনি অপারেশন থিয়েটারের ভিতরে লোহার খুুঁটি দিয়ে ছাদ ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের একজন নার্স জানান, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসক একজন রোগীর অস্ত্রোপচার করছিলেন। তখন ভবনের থাইগ্লাস ভেঙে পড়ে। দেয়াল ফেটে যায়। এ সময় দ্রুত রোগীকে পাশের সার্জারি ওটিতে নিয়ে আসা হয়। খবর দেওয়া হয় হাসপাতালের পরিচালক ও গণপূর্ত বিভাগকে। গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা এসে ওই কক্ষের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র খুলে নেন। সেখানকার অন্যান্য যন্ত্রপাতিও সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে ফাটলের কারণে গাইনি ওটি বন্ধ থাকায় পাশের সার্জারি ওটিতে গাইনির রোগীদের অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। এখানে আগে অন্য রোগীদের অস্ত্রোপচার হতো। অস্ত্রোপচারের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে এখনো রোগীরা এখানে এসে হয়রানি হচ্ছেন। এসব রোগীকে হাসপাতালের নতুন ভবনের দোতলার একটি ওটিতে পাঠানো হচ্ছে।
রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার রাতে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সেখানে গেছেন। যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাদের নকশা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছেন। তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন এই ভবন টিকবে নাকি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা আছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, পাশের ক্যান্সার সেন্টার ভবনের গর্ত করার জন্যই ওটিতে ফাটল ধরেছে। তারা ভালো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু নিচ থেকে বালু সরে যাওয়ায় হয়তো দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি বলেন, গাইনি অপারেশন বন্ধ রাখা যায় না। তাই তারা পাশের সার্জারি ওটি ব্যবহার করছেন। ওই ভবনে আর ওটি চালানো যাবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.