ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেছেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্যের জায়গাটা এখন বিত্তের ভিতরে সীমাবদ্ধ নেই। দারিদ্র্যের জায়গাটা আসলে তৈরি হয়েছে আমাদের মননে।

যে কোনও ভাবে সম্পদ আহরণ, যে কোনোভাবে নিজে ভালো থাকবো, এই মানসিকতা থেকে আমাদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা, সেই মানসিকতা থেকে যদি বেরিয়ে আসা যায়, এর বিরুদ্ধে যদি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি প্রতিকারের উদ্যোগগুলো নেয়া হয় এবং আমরা যদি কমিটমেন্ট করি আমি নিজে দুর্নীতিমুক্ত থাকবো, আমার পরিবারকে দুর্নীতিমুক্ত রাখবো তাহলে নিশ্চয়ই আমরা আমাদের দেশ-পরিবার-সমাজকে দুর্নীতি থেকে মুক্ত রেখে সুনীতি চর্চার মাধ্যমে একটি কাম্য এবং কাঙ্খিত সমাজ গড়ায় অবদান রাখতে পারবো।

তিনি বলেন, যাদের ওপর আমরা ভরসা করতে পারি, যাদের নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখতে পারি সে হচ্ছে আমাদের এই প্রজন্ম।

তিনি আরও বলেন, আসলে ফেরেশতা এবং শয়তান আমাদের প্রবৃত্তিতে বসবাস করে। যদি অ্যানিমেল প্রবৃত্তিটা আমাদের মধ্যে প্রবল হয়ে যায় তাহলে সমাজ থাকে অস্থির, দুর্নীতিগ্রস্ত। যদি সুশাসন, ন্যায্যতা, ন্যায়নীতির ভাগটা বেশি থাকে তাহলে সমাজটাকে সুস্থ সমাজের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আমরা দেখতে পাই।

‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কর্ম-পরিকল্পনা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা : উৎস ও প্রতিকার’ বিষয়ক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলা বিভাগের আয়োজনে মঙ্গলবার (১৬ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর গাজী মোঃ মাহবুব মুর্শিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন।

আলোচক হিসেবে ছিলেন প্রফেসর ড. মদ বাকী বিল্লাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) ও এপিএ বাস্তবায়ন টিমের ফোকাল পয়েন্ট চন্দন কুমার দাস।

উল্লেখ্য, আলোচনা সভা শেষে কলকাতার বাগুইয়াটি নৃত্য মন্দির (বিএনএম) একটি নৃত্যনাট্য ‘সাইলেন্স’ পরিবেশন করে।