মোঃ ছিদ্দিক, ভোলা প্রতিনিধি: সকাল সাড়ে ৯ টা, স্কুলের শার্ট আর প্যান্ট পরে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে দৌলতখান সুকদেব মদন মোহন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর সশরীরে ক্লাসে বসার আনন্দ তাদের চোখে-মুখে। স্কুল কর্তৃপক্ষক সমউচ্ছ্বাসে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে একে একে সবাইকে ঢোকানো হয়েছে শ্রেণিকক্ষে। করোনা সংক্রমণের কারণে টানা ৫৪৩ দিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে শিক্ষাঙ্গন।
রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দৌলতখানসহ সারাদেশের স্কুল-কলেজে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হয়েছে সশরীরে একাডেমিক কার্যক্রম। সরেজমিনে দৌলতখান সুকদেব মদন মোহন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে সকাল থেকেই ভিড় করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর ক্লাস শুরু হওয়ার প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর সঙ্গেই এসেছেন অভিভাবকরাও। মূলত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে উদ্বিগ্নতার কথা জানান তারা। তবে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনেই ক্লাস শুরু করা হচ্ছে। আগে যে সব শ্রেণিকক্ষে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী বসে ক্লাস করত সেখানে এখন ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষের সংখ্যাও বাড়ান হয়েছে। এছাড়াও প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখেই ছিল স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি। মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিশ্চিত করে এবং বডি থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মাপার পরই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল শিক্ষার্থীদের। স্কুলে প্রবেশমুখে ও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বেসিন, সাবান এবং পানির ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও প্রবেশ মুখে ও আশেপাশে বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুনে সশরীরে ক্লাসের নির্দেশনাও টানিয়ে দেওয়া হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি ও পরবর্তী বছরের এসএসসি-এইচএসসি এবং সমমানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করবে আর বাকিরা করবে সপ্তাহে একদিন। নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৭ মার্চ বন্ধ করা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপর মোট ২৩ দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.