
দিনাজপুরের খানসামায় কুমড়িয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষকের দ্বন্দ্বে,স্কুলে একদিনের জন্য তালা লাগিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১৫ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষকে দন্ড সৃষ্টি হওয়ার কারনে, স্কুলের ভবিষ্যৎ ছাত্র-ছাত্রীদের কথা চিন্তা করে স্কুল একদিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মোহাম্মদ মিন্টু আলী।

জানা গেছে,কুমড়িয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: সামসুল হক অবসরে গিয়েছেন গত ৩০/১০/২০২০ ইং তারিখ। তিনি যাওয়ার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে মোঃ আসলাম আলীর দায়িক্ত গ্রহন করার কথা থাকলেও, দায়িক্ত গ্রহন করেন মিন্টু আলী নামের সেই সময়ের ১৪ নম্বরের একজন সহকারী শিক্ষক। সেই সময়ে বিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটির সভাপতি ছিলেন মোঃ মনসুর আলী মাষ্টার।
তখন তিনি নানান রকম কার্যক্রম দেখিয়ে ও প্রধান শিক্ষকের পদ ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য মোঃ আসলাম আলীকে সাসপেন্ড করেন। পরে বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি এবং দায়িক্ত পাওয়ার জন্য তিনি হাইকোর্ট এ আপিল করেন এবং পরবর্তীতে হাইকোর্ট তাকে আদেশ দেয় তাকে নিম্ন পদে যোগদান করার জন্য।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ মিন্টু আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি ঘটনা অস্বীকার করেন এবং বলেন, আমাকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আমি বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেছি এবং প্রতিষ্ঠান সুন্দরভাবে চলতেছে আজ এসএসসি পরীক্ষার কারণে ১ দিনের সাময়িক ছুটি ঘোষণা করি এবং আগেই শিক্ষার্থীদের কে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অপর দিকে কুমড়িয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসলাম আলী বলেন, আইনের মাধ্যমে স্কুলে যাবেন তিনি।
এছাড়াও এ ঘটনায় লাঠি-সোঠা নিয়ে দু পক্ষে এগিয়ে আসে। এজন্য দু'পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে বলে মনে করেন এলাকাবাসীগণ।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থান পরিদর্শনে আসেন,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনজুরুল হক,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান জনবন্ধু এটিএম সুজাউদ্দিন লুহিন শাহ্ ও খানসামা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চিত্তরঞ্জন রায়। তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এবং এই ঘটনায় দুই পক্ষকে বিষয়টি সমাধানে নিয়ে আসার জন্য প্রতিশ্রুতি দেন।
এ বিষয়ে জনবন্ধু এটিএম সুজা উদ্দিন লুহিন শাহ্ জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যালয়টিতে সাময়িক বরখাস্ত হিসেবে সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ আসলাম আলী বরখাস্ত ছিলেন এবং মহামান্য হাইকোর্ট যেখানে প্রবেশ করার অনুমতি দিয়েছে সেখানে কোনো দাঙ্গার প্রয়োজন নেই।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.