কবিতাঃ তোমার শহরে আমার বিচরণ
রাকিবুল ইসলাম জুয়েল

আমি বড্ড উম্মাদ হব,
খালি পায়ে হেটে বেড়াব এই যান্ত্রিক শহর।
প্রতিটা দেয়ালে কাঠ কয়লা দিয়ে,
তোমার নামে ছাইয়ে দিব কবিতার বহর।

তুমি যখন, বরের হাত ধরে হাটবে,
ইট সুড়কি তোমায় হাতছানি দিয়ে ডাকবে।
বলবে, এ ক্ষত তোমারি কারণে,
আমি আজ বড্ড উম্মাদ, তোমার শেষ বারণে।

তোমার বাড়ির সামনে যে টং দোকান আছে,
এখন সেখাই সেখানেই আমার বাস।
আর্মি কাট দেয়া চুল গুলো আজ অবাধ্য,
বেধেছে খানিক টা জট, ধুলো জমেছে একরাশ।

তোমার দেয়া নীল রঙের শার্ট টা,
আজ তিন বছরের ব্যবধানে চেনা যায় না এক চুল।
বাম পাশের পকেট টা আজ ফুটো,
ডান পাশের পকেটে তোমার দেয়ে শুকনো বকুল।

কানেকশন বিহীন টেলিফোন টা এখনো অপেক্ষায়,
পরিচিত কণ্ঠ শোনবার প্রতিক্ষা শ্রাব্যতার পরিসীমায়।
মুঠোফোনের ডিসপ্লে টা আলো জ্বালায় না আর,
ভেসে ওঠে না আর, পরিচিত তোমার মুখ সহ নাম্বার।

পার্কে পুকুর পাড়ে তোমার পছন্দের বেঞ্চ,
এখনো রাতের আলোতে সঙ্গ দেয় আমায় রোজ।
পথে কাটানো দিন গুলো বড্ড রঙিন লাগে,
রান্নার কোন প্যাড়া নেই, অপেক্ষা ভাগ্যের ভোজ।

তোমার শহরে আমার এই অবাধ বিচরণ,
নিজের অজান্তেই শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
স্মৃতিপট শিরিষ কাগজে, বছর তিনেক ডলেছি,
গুছিয়ে নিয়েছি নিজেকে, অজানার পথে চলেছি।

যাবার কালে লিখে গেলাম তোমার নামে দু লাইন,
দিয়েছ আমায় যে ব্যাথা, ক্ষত পূরণ হবে না সেথা।
যেদিন আমার পদধূলি পরবে না তোমার শহরে,
একটা রক্তকরবী গাছ লাগিয়ে দিও আমার কবরে।