“বৈশাখের কাছে প্রত্যাশা”

মো: শামছুজামান

আবার এসেছে ফিরি’ পহেলা বৈশাখ
আজি বর্ষ শেষে হে নববর্ষ-
চৈত্রের নিদারুন বিষন্ন রাত্রী ভার
দিয়ে গেল শেষ উপহার।
বসন্তের অবদানে সুসজ্জিত ধরণীর প্রাতে

এনেছাে কি সাথে..?
দূর্বিসহ দুঃস্বপ্ন আর অতীত গ্লানী মুছাবার
প্রসন্ন চিত্তে প্রশান্তিভরা উজ্জ্বল দিন উপহার?
এনেছাে কি বৈশাখের তৃষীত ধরনীর দেহ
শ্যামল-সুজলা-সুফলা স্নিগ্ধ ছায়া,তবুও সন্দেহ
তবুও শংকিত দ্বিধা ভারাক্রান্ত মন
পুরাতন বর্ষ গেছে বঞ্চনায় ভরা মন।

সে কি আজ ঘুচাইবে দৈন্য,মুছায়ে নয়নের জল?
ক্ষুধার্ত মানবের তরে আনিৰে সােনার ফসল।
এনেছো কি নববর্ষ? পূর্ণ করি বক্ষপুটে
মানবের শক্তি লড়িয়া ওঠে
দাঁড়াবে দৃঢ়পদে সভ্যতার অভ্যুদয়ে
নবীনের তরে এসেছো কি নতুন বার্তা লয়ে?
আজি নববর্ষ প্রাতে প্রসন্ন নবীন মাগে
নতুন প্রত্যাশায় প্রত্যাশা জাগে
ক্ষুধিত-তৃষিত প্রাণে ভারা কূল প্রাণ
বাঁচিবার চায় পথের সন্ধান
খুঁজে ফেরে অহর্নিশি।
আশাহীন দিধা স্বপ্নে হেরিয়া ষােড়শী উর্বশী।

হে নববর্ষ আজি মধু মাসে
অশােকের হাসি নিয়া সুরঙিন জীবন আশ্বাসে
পুরাতন পংকিল ইতিহাস যবনিকা করি উন্মােচন
তুমি এসাে হে বৈশাখ, এসাে হে নতুন।
আজি নব প্রভাতে মধুর ভান্ড ভরি
নব প্রাণে জাগে শিহরি শিহরি
নব প্রাণে নৰ অনুরাগে
নব সম্ভাবনায় নব প্রত্যাশা জাগে।

হে বৈশাখী অবিনাশী
বিষন্ন মুখে ফুটাবে কি হাসি?
আজি নববর্ষে পুরাতন ভুলি নতুন প্রহরে
নতুন স্বপ্ন, বাঁচিবার প্রত্যাশা বক্ষ ভরে
যেনাে পূর্ণ হয়ে ওঠে হাসিতে আনন্দে সারাক্ষণ
অনেক বঞ্চনার শেষে আশায় ভরা মন।