
"নদী হবে প্রবহমান, দখল ও দূষণ মুক্ত" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন কর্তৃক আয়োজিত 'বিশ্ব নদী দিবস-২০২২' উদযাপন উপলক্ষে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের পার্লামেন্ট এলডি হল-এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্ আজম বলেন, নদীর সাথে এই ভূখণ্ডের মানুষের গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। নদীকে ঘিরে এদেশের মানুষ জীবনধারণ করে আসছে বহুকাল ধরে। ফলে শিল্প-সাহিত্য আর সংস্কৃতিতে নদীর সচল উপস্থিতি সহজেই টের পাওয়া যায়।
উপাচার্য জলবায়ুর সংকট মোকাবেলায় নদী-রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, বনাঞ্চল ধ্বংস একদিকে যেমন জলবায়ু পরিবর্তন করছে অন্যদিকে নদীর নাব্যতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে ছোট ছোট নদীগুলো দিন দিন মৃতপ্রায় হয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি নদীকে বাঁচাতে না পারি তবে আমাদের এই সভ্যতাকেও বাঁচাতে পারবো না। সুতরাং এই সভ্যতা টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদেরকে নদী রক্ষার বিকল্প নেই।
রবি উপাচার্য আরও বলেন, নদী রক্ষা করতে হলে নিয়মিত নদীর খনন, নদীকে দখলমুক্ত করা এবং নদীকে আপনার করে ভালোবাসতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীরক্ষা বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। তাঁর প্রচেষ্টায় দেশে বহু নদী দখলমুক্ত এবং দূষণমুক্ত হয়েছে। এর সাথে নাগরিক উদ্যোগ যুক্ত হলে আশাকরি অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নদীগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং পূর্বের ন্যায় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শক্তিশালী সহায়ক হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার সাদতের সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার জনাব শামসুল হক টুকু এবং উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.