
দেশীয় মূল্যবোধ বিরোধী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় বাংলাদেশের উচ্চ আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এক মানববন্ধনে তারা ধন্যবাদ জানান।
গত ১৬ আগস্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরে দেখা যায়, একটি মামলার পর্যবেক্ষণে উচ্চ আদালত বলেন, সভ্য দেশে এমন পোশাক পরে রেলস্টেশনে যাওয়া যায় কি-না? কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করার অধিকার আছে কি-না? পোশাক সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না? যে সমাজে যাবেন, সে সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থাও একটি বিষয়। ঢাকায় এক, গ্রামে অন্য ধরনের।'
এই পর্যবেক্ষণকে 'দেশীয় মূল্যবোধ বিরোধী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায়' উচ্চ আদালতকে ধন্যবাদ জানান মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রাবির একদল ছাত্রী। পোশাকের নামে পশ্চিমা অপসংস্কৃতি আমদানিকারক ও উচ্চ আদালতকে কটূক্তিকারীদের বিচার দাবী করেন তারা।
মানববন্ধনে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সায়েদা খাতুন বলেন, 'গত ১৬ই আগস্ট, ২০২২ তারিখ একটি মামলার পর্যবেক্ষণে উচ্চ আদালত পোশাকের স্বাধীনতার নাম দিয়ে যারা পশ্চিমা অপসংস্কৃতি আমদানি করছে, তাদের বিরুদ্ধে বলেছেন। উচ্চ আদালত এক পর্যবেক্ষণে কোন সভ্য দেশে অশালীন পোশাক পরে কেউ রেলওয়ে স্টেশনে যায় কি না, এমন প্রশ্নও তুলেছেন। আমরা উচ্চ আদালতের এ সুন্দর পর্যবেক্ষণ ও বক্তব্যকে ধন্যবাদ জানাই।'
উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী স্বর্ণা আক্তার বলেন, 'এক নারীর অশালীন পোশাক অন্য নারীর নির্যাতনের কারণ হতে পারে। যেমন- কোন অশালীন পোশাক পরিহিতাকে দেখে হয়ত কোন খারাপ লোক যৌন উত্তেজিত হলো, কিন্তু সেখানে সেই উত্তেজনা নিরসনের সুযোগ পেলো না।
সুযোগ বুঝে সে অন্য কোন নিরীহ ও দুর্বল নারীর উপর তা প্রয়োগ করলো। এভাবে এক নারীর অশালীনের পোশাকের কারণে অন্য নারীও নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হতে পারেন।'
মানববন্ধনে ফিসারিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী কবিতা খাতুন বলেন, 'আজকাল মিডিয়ায় নারী মানেই পণ্য। নারীকে পূজি করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রির পসরা সাজিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এটা নারীত্বের জন্য চরম অপমান। নারীকে পণ্য বানানোর এ ঘৃণ্য অপসংস্কৃতি থেকে অবশ্যই বের হয়ে আসতে হবে।'
মানববন্ধনে আইন বিভাগের নুপুর, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের হাওয়া খাতুন , অনামিকা, ভেটেনারী বিভাগের ইভা রহমান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের আজাদী জাহান উর্মীসহ বিশ থেকে পঁচিশজন ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.