
সুপারস্টার শাহরুখ খান। তিন দশক ধরে বলিউড শাসন করে চলেছেন এই অভিনেতা। যদিও অভিনয় তার প্রথম পছন্দ ছিল না। হতে চেয়েছিলেন আর্মি অফিসার। তবে হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে কাটিয়ে ফেললেন ৩০ বছর।শাহরুখকে বলা হয় ‘বলিউড বাদশা’।
তবে তার এই খ্যাতির পেছনে রয়েছে অনেক চড়াই উতরাইয়ের গল্প। ভারতের নয়া দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন শাহরুখ। তার জীবনের প্রথম পাঁচ বছর কেটেছে ম্যাঙ্গালোরে, নানির বাড়িতে। নানি তার নাম প্রথমে আব্দুর রহমান রাখতে চেয়েছিলেন। পরে বাবা নাম রাখেন শাহরুখ খান।
ছাত্র থাকা অবস্থায় মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন। সে সময় অমৃতা সিং (অভিনেত্রী সারা আলী খানের মা) ছিলেন তার অভিনয় সঙ্গী, যিনি পরে নায়িকা হয়েছিলেন। বলিউডে যোগ দেয়ার আগে দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় প্রশিক্ষণ নেন শাহরুখ। এরই মাঝে তার বাবা ক্যানসারে মারা যান।
এর ১০ বছর পর ১৯৯১ সালে মারা যান তার মা। মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন শাহরুখ। সে সময় তার বড় বোন শাহনাজও একা হয়ে পড়েন। তাই বোনের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। আর মায়ের মৃত্যু শোক ভুলতে অভিনয়েই নিজেকে নিবিষ্ট করেন।
[caption id="attachment_107977" align="alignnone" width="300"]
ফৌজি ধারাবাহিকের শাহরুখের দৃশ্যে[/caption]
শুরুতে ক্যামেরার পেছনে কাজ করার ইচ্ছা করেন। এরপর দূরদর্শন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অভিনয় শুরু করেন। ‘দিল দরিয়া’ টিভি সিরিজে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। তবে সিরিজটি সম্প্রচার হওয়ার আগেই ‘ফৌজি’ সিরিজটি টেলিভিশনে প্রচার হতে থাকে। এতে আর্মি ক্যাডেটের চরিত্রে অভিনয় করেন দর্শকের নজর কাড়েন শাহরুখ।
পরবর্তী সময়ে ‘সার্কাস’, ‘ইডিয়ট’, ‘উমিদ’, ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’ টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। সেই সময় দূরদর্শনে ইংরেজি ভাষার টিভি ফিল্ম ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোজ ওয়ান্স’ –এ একটি চরিত্রেও দেখা গেছে তাকে। ১৯৯১ সালে দিল্লি থেকে মুম্বাই চলে যান ক্যারিয়ার গড়তে। সেই বছর বলিউড স্টার হেমা মালিনীর প্রথম পরিচালিত ‘দিল আশনা হ্যায়’ সিনেমাতে চুক্তিবদ্ধ হন। এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম চুক্তি করা সিনেমা।
সে বছর একসাথে ৪টি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। তবে তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘দিওয়ানা’। এই সিনেমা মুক্তি পায় ১৯৯২ সালের ২৫ জুন। এতে মূল নায়ক ছিলেন ঋষি কাপুর। মুক্তির পর সিনেমাটি হিটও হয়। এরপর ‘ডর’ (১৯৯৩), ‘বাজিগর’ (১৯৯৩) ও ‘আনজাম’ (১৯৯৪) সিনেমাতে অভিনয় করে খ্যাতি পান শাহরুখ। পরবর্তী সময়ে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
‘করণ অর্জুন’ (১৯৯৫), ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ সিনেমাগুলো বলিউডে নতুন এক অধ্যায় তৈরি করে। ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ (১৯৯৭), ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ (১৯৯৮), ‘কাভি খুশি কাভি গম’ (২০০১) সিনেমাগুলো সুপার হিট হয়। ‘দেবদাস’ (২০০২), ‘স্বদেশ’ (২০০৪), ‘চাক দে ইন্ডিয়া’, ‘মাই নেম ইজ খান’ এই অভিনেতার কেরিয়ারের অন্যতম সেরা সিনেমা। শাহরুখ সেরা অভিনেতার ক্যাটাগরিতে আটটিসহ ১৪ বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন।
[caption id="attachment_107976" align="alignnone" width="300"]
পাঠান সিনেমার শাহরুখের দৃশ্যে[/caption]
শাহরুখ অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘জিরো’। ২০১৮ সালে এটি মুক্তি পায়। তবে বর্তমানে তার ঝুলিতে রয়েছে একাধিক সিনেমা। ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় পরিচালক অ্যাটলি কুমারের ‘জওয়ান’সিনেমায় দেখা যাবে তাকে। এছাড়া যশরাজ ফিল্মসের ‘পাঠান’ ও রাজকুমার হিরানির ‘দুনকি’ সিনেমায় অভিনয় করছেন শাহরুখ। সিনেমাগুলো আগামী বছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.