যুদ্ধ মানেই নির্মমতা আর প্রিয়জনে বিচ্ছেদ। তবে এরমধ্যেই আবার রচিত হয় প্রেম-ভালোবাসা আর মানবতার আখ্যান। উপমহাদেশের দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান। বেশ কয়েকবার সীমান্তে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়েছে দেশ দুইটি। তবে উভয় দেশের নাগরিকরাই আবার পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল। তার আরেকটি প্রমাণ মিললো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। 

বিনামূল্যেই ভারতের হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে নিজের গাড়িগুলো দিয়ে ইউক্রেন সীমান্ত পার করিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের এক নাগরিক। কঠিন মুহূর্তে দেশে ফিরে যেতে সাহায্য করেছেন ভারতের ওই ছাত্র-ছাত্রীদের। আর তাই ২৮ বছর বয়সী পাকিস্তানি নাগরিক মোয়জ্জেম খান হয়ে গেছেন এখন তাদের প্রিয় ভাই ‘খান ভাই’।

অথচ তার নিজের পরিবারই এখনও ইউক্রেনে আটকে আছে। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ওরা তো সবাই আমার ভাই-বোন। ওদের বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এটাকে সাহায্য বলতে লজ্জা লাগছে। আমি পাকিস্তানি বলে কোনও ভারতীয়কে সাহায্য করব না, এতটা অশিক্ষিত ছোট মনের হওয়া উচিত নয়।

পাকিস্তানি নাগরিক মোয়জ্জেম খান, ছবি:ইন্টারনেট

পাকিস্তানি নাগরিক মোয়জ্জেম খান, ছবি:ইন্টারনেট
ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দাবাজার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হাজার খানেক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করলেও মোয়াজ্জেমের পরিবারের সদস্যরা আটকে আছেন রুশ হামলায় বিধ্বস্ত পূর্ব ইউক্রেনের সুমি শহরে। আর মোয়াজ্জেম আছেন পশ্চিম ইউক্রেনের টর্নোপিল শহরে। গত এক দশক ধরে ইউক্রেনে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মোয়াজ্জেম। পর্যটন ব্যবসার জন্য তার বাস এবং ট্যাক্সি রয়েছে। সেসব গাড়িতে করেই তিনি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সীমান্ত পার করে দেন।
নি জানান, গত ১৫ দিনে বিভিন্ন দেশের তিন হাজার মানুষকে তিনি সাহায্য করেছেন। তার মধ্যে ৮০ শতাংশই ভারতীয়। প্রথমে গাড়ি দিয়ে শুরু হলেও পরে খাবার, থাকার ব্যবস্থা করেও সাহায্য করেন তিনি। মোয়াজ্জেম বলেন, কত খরচ হয়েছে তার হিসাব করছি না, বেঁচে থাকলে আবার উপার্জন করা যাবে। মোয়াজ্জেমের সাহায্য নিয়ে গত ৭ তারিখ ইউক্রেন থেকে ঝাড়খণ্ডের বাড়িতে ফিরেছেন মনমিত কুমার। তিনি জানিয়েছেন, ‘খান ভাই’ না থাকলে তারা সময়মতো সীমান্তে পৌঁছাতে পারতেন না।
ভারতীয় শিক্ষার্থী আর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর কাছে গত কয়েক দিনে মোয়াজ্জেম খান হয়ে গেছেন ‘খান ভাই’। মনমিত জানিয়েছেন, বাসের জন্য তাদের কাছ থেকে টাকাও চাননি খান ভাই। মোয়াজ্জেমের ভাষায়, বিদেশের মাটিতে তো পাকিস্তান আর ভারতীয়দের মধ্যে কোনও সীমান্ত নেই। আমি ভারতীয় শিক্ষকের কাছে পড়াশোনাও করেছি। সীমান্ত পেরোনোর পর ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ফোনে, মেসেজে ধন্যবাদ জানিয়েছেন খান ভাইকে। বা়ড়ি ফেরার পর তাদের মা-বাবাও ফোন করে আশীর্বাদ করেছেন। বাড়িতে যাওয়ার দাওয়াতও করছেন। খান ভাইও সেই দাওয়াত কবুল করে জানিয়েছেন, সময় পেলে তিনি