আল-আকসা মসজিদে সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে, তা নিরসনে মধ্যস্থতার কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র হিসেবে কাতার সব পক্ষের সঙ্গেই কথা বলছে।

আজ (শনিবার) দুপুরে দু’পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের বৈঠকের সূচি নির্ধারিত হয়েছে।’ গত বুধবার, ৫ জানুয়ারি আল আকসা মসজিদের চত্বরে কয়েকশ ফিলিস্তিনি মুসল্লির সঙ্গে সংঘাত হয় ইসরায়েলি পুলিশের।

সেই সংঘাতের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের ইফরাত শহর এবং ইসরায়েলের বৃহত্তম শহর তেল আবিবে বন্দুক ও গাড়ি হামলায় নিহত হন তিন বিদেশি পর্যটক।

তারপর ওই দিনই সন্ধ্যার পর ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে সেনা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সমাবেশের ডাক দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গত বুধবার, ১৩ রমজান ছিল ইহুদিদের পবিত্র পাসওভার দিবস।

ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের পূর্বে এই দিনে আল আকসা মসজিদ চত্ত্বরে ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী ছাগল জবাই করা হতো। মঙ্গলবার অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ড শাসনকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস ইহুদি চরমপন্থীদের হাত থেকে আল আকসাকে রক্ষার আহ্বান জানায়।

কারণ এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে —ইহুদি চরমপন্থীরা পাসওভার দিবস উপলক্ষে বিরোধপূর্ণ ওই এলাকায় ছাগল জবাই করতে পারে। এর পর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলো লক্ষ্য করে গাযা থেকে ৯টি রকেট ছোড়া হয়। জবাবে গাযায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।

এদিকে, পাসওভার দিবস উপলক্ষ্যে ইহুদি চরমপন্থীদের সম্ভাব্য ছাগল জবাই প্রতিহত করতে মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজের পর কয়েক শ’ মুসল্লি মসজিদের সামনে ব্যরিকেড তৈরি করে অবস্থান নেন।