ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর আইনজীবীরা বলেছেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সৌদি আরবের কাছ থেকে আসা গহনা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছেন বলসোনারো। স্থানীয় গণমাধ্যম সোমবার এ কথা জানায়।

‘এস্তাদো দে সাও পাওলো’ সংবাদপত্রের এক রিপোর্টের প্রেক্ষিতে সাবেক নেতা ফেডারেল পুলিশ ও ব্রাজিলিয়ান ট্যাক্স এজেন্সির তদন্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ট্যাক্স এজেন্টরা ২০২১ সালের অক্টোবরে খনি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যে সফর শেষে ফেরত আসার সময় তার ব্যাকপ্যাকের ভেতরে ৩২ লাখ ডলার মূল্যের গহনার প্যাকেজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রধান বেন্টো আলবুকার্ক সংবাদপত্রকে জানান, বিলাসবহুল সুইস ব্র্যান্ড চোপার্ডের একটি ঘড়ি ও একটি কলমসহ গহনার দ্বিতীয় সেটটির কথাও বিমানবন্দরে সফরকারি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঘোষণা দেয়নি। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্যাকেজটি শনাক্ত না করেই দেশে প্রবেশ করেছে।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগত উপহার বলে একটি ঘড়ি, একটি কলম এবং অন্যান্য বিলাসবহুল আইটেমগুলো আটকে রেখেছিলেন।

সংবাদ আউটলেট জি-১ বলেছে, বলসোনারোর আইনজীবীরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত পুলিশকে আইটেমগুলো আদালতে সোপর্দ করতে বলেছিলেন। ব্রাজিলের ফেডারেল কোর্ট অফ অ্যাকাউন্টস (টিসিইউ)র বিচারক সেগুলোকে সরকারি কোষাগারের তত্ত্বাবধানে নেয়।

গত সপ্তাহে বলসোনারো এবং আলবুকার্ককে গহনাগুলো জাতির কাছে ব্যক্তিগত উপহার বা উপহার ছিল কি-না এবং কেন সেগুলো আনার সময় কর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি, সে বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোকে সংগ্রহ থেকে কোনো অংশের মালিকানা নেওয়া, পরিধান, ব্যবহার বা হস্তান্তর থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক অগাস্টো নারদেস।

প্রসঙ্গত, বলসোনারো অক্টোবরে চার বছরের মেয়াদে পুননির্বাচিত হতে পারেননি। তার বামপন্থী উত্তরসূরি লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবছরের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার দুই দিন আগে থেকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যে বসবাস করতে শুরু করেন।