
চীনের বিভিন্ন শহরে সম্প্রতি বেড়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এর প্রেক্ষিতে এবার দেশটির সবচেয়ে বড় শহর সাংহাইয়ের সব বাসিন্দাকে একদিনে করোনা পরীক্ষার আওতায় আনতে যাচ্ছে চীন সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি শহরটিতে পাঠানো হয়েছে কয়েক হাজার সেনা সদস্য।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় সোমবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে সাংহাইয়ের প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ বাসিন্দার করোনা পরীক্ষা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিউক্লিক অ্যাসিড টেস্টের জন্য এদিন সাংহাইয়ের অনেক বাসিন্দাকে ভোর হওয়ার আগেই ঘুম থেকে উঠে তাদের বাড়ির সামনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার (৩ এপ্রিল) সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং যৌথ লজিস্টিক সাপোর্ট ফোর্স থেকে দুই হাজারের বেশি মেডিকেল কর্মীকে সাংহাইতে পাঠায় পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, জিয়াংসু, ঝেজিয়াং ও বেইজিংসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে ১০ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সাংহাইতে পাঠানো হয়েছে। মহামারি শুরুর পর থেকে এটিই চীনের সবচেয়ে বড় করোনা পরীক্ষা কার্যক্রম।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বিবৃতির বরাতে সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, রোববার (৩ এপ্রিল) দেশটিতে একদিনেই ১৩ হাজার ১৪৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দেশটিতে দুই বছর আগে করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর সর্বোচ্চ।
এর আগে গত ২৮ মার্চ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংহাইয়ে দুই দফায় ৯ দিনের বেশি লকডাউন জারি থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সময় শহরটির বাসিন্দাদের করোনা পরীক্ষা করা হবে।
চীনের গুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহত্তম এই সাংহাই শহরে গত একমাস ধরে ধারাবাহিকভাবে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। ২৬ মার্চ শহরটিতে একদিনে রেকর্ডসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে লকডাউন দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লকডাউন কার্যকর করা হবে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে ২৮ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত সাংহাইয়ের পূর্বাঞ্চলে লকডাউন জারি থাকবে। আর ১ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন জারি থাকবে শহরটির পশ্চিমাঞ্চলে। এ সময় গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। বন্ধ রাখতে হবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কারখানা। তবে ঘরে থেকে কাজ করা যাবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.