বর্তমানে সৌদি আরব সফর করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুক্রবার ইসরায়েল থেকে সরাসরি সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাতে ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন বলে জানিয়েছেন জো বাইডেন।

তিনি শুক্রবার রাতে জেদ্দায় এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তিনি মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) বলেছেন যে, তার বিশ্বাস এই হত্যাকাণ্ডের দায় তার (এমবিএসের)। তবে এ সময় সৌদি যুবরাজ তাকে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে এ হত্যাকাণ্ডে তার কোনও দায় নেই বরং তিনি হত্যাকারীদের শাস্তি দিয়েছেন।

বাইডেন আরও বলেন, তিনি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় সৌদি আরব সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জন্য ‘কোনও অবস্থায়ই অনুতপ্ত’ নন।

২০২০ সালে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে বাইডেন এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের কারণে তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা কমিয়ে আনবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফরে ইসরায়েল হয়ে সৌদি আরবে গেছেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কট্টর সমালোচক ছিলেন।

শুরু থেকেই হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে মোহাম্মদ বিন সালমানকে সন্দেহ করা হচ্ছে। সৌদি আরব প্রথমে এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও পরে আন্তর্জাতিক চাপে খুনের কথা স্বীকার করে। তবে এখন পর্যন্ত মৃতদেহের সন্ধান দেয়নি সৌদি রাজপরিবার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মোহাম্মাদ বিন সালমান বা তার ঘনিষ্ঠদের হাতে আবারও একই রকম হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি যে ঘটবে না সে নিশ্চয়তা তিনি দিতে পারছেন না। তবে আরেকবার এরকম হত্যাকাণ্ড ঘটলে আমেরিকার ‘জবাব অত্যন্ত কঠোর’ হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সূত্র: বিবিসি