
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার ৮নং জয়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব রামচন্দ্রপুর গ্রামে প্রবাসী অর্থায়নে নির্মিত একটি পবিত্র ঈদগাহ ময়দানে ভাঙচুর ও পরিবেশ বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে একদল স্বার্থান্বেষী ও দুষ্কৃতিকারী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রবাসীর ছোট ভাই বাদী হয়ে স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)ভুক্ত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়লস্কর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ব রামচন্দ্রপুর গ্রামে অবস্থিত 'হাজী আব্দুল আউয়াল ঈদগাহ কাইয়ে পুকুর' ময়দানটি কুয়েত প্রবাসী জনাব আবুল কালাম আজাদের একক উদ্যোগ, অক্লান্ত পরিশ্রম ও সম্পূর্ণ অর্থায়নে গড়ে ওঠে। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের দুই ঈদের নামাজ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে আদায়ের উদ্দেশ্যে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে সমাজের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই এর নামকরণ করা হয় 'হাজী আব্দুল আউয়াল ঈদগাহ কাইয়ে পুকুর'।
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিনের আন্তরিক সহযোগিতার পর ঈদগাহটি যখন একটি সুন্দর রূপ নেয়, ঠিক তখনই ঈদুল আজহার নামাজ শেষে কিছু দুষ্কৃতিকারী ময়দানের টাইলস ভাঙচুর করে। শুধু তাই নয়, মাঠের ভেতর রডসহ বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ও বর্জ্য জিনিসপত্র রেখে পবিত্র স্থানটির পরিবেশ নোংরা ও বিনষ্ট করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এই ময়দানকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর পবিত্র রমজানে ইফতার মাহফিলের আয়োজনসহ বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা পুরো রামচন্দ্রপুর এলাকার ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। একটি পবিত্র ও ধর্মীয় স্থানে এ ধরনের হীন ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাদের মতে, নাম বা অন্য কোনো বিষয়ে কারো কোনো অভিযোগ থাকলে তা সম্মিলিতভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত, ভাঙচুর কখনোই কোনো সঠিক সমাধান হতে পারে না।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এলাকার সচেতন সমাজ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রধান ৩টি দাবি ও আহ্বান জানানো হয়েছে:
সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা: ঘটনার পেছনে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
পবিত্রতা রক্ষা: ঈদগাহ মাঠ থেকে দ্রুত রড ও ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে পূর্বের সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে।
অপপ্রচার রোধ: দল-মত নির্বিশেষে পবিত্র ময়দানের সুরক্ষায় সবাইকে এক হয়ে যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও ড. ফখরুদ্দিন মানিকের দৃষ্টি আকর্ষণ:
এদিকে পবিত্র ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষা এবং এই উদ্ভূত সামাজিক সমস্যাটির স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং ফেনী-৩ (দাগনভূঞা ও সোনাগাজী) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ড. ফখরুদ্দিন মানিকের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করছেন, শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত এই পবিত্র স্থানের সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.