আজাদুল বারী, বড়াইগ্রাম,নাটোর প্রতিনিধি :স্ত্রী, সন্তান নিয়ে স্বাভাবিক দিন কাটছিল রহিম হোসেনের (ছদ্দ নাম)। স্থানীয় কয়েকজন ব্যাক্তির সহযোগীতায় একটি দোকান দিয়ে দিন পার করছিলেন তিনি। মেয়েকে স্কুলে লেখাপড়া করাচ্ছেন। মেয়ে এবছর ৬ষ্ঠ শ্রেনীর বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে। হঠাৎ করেই আবদুর রহিমের চোখের পর জীবনের উপরে আমবস্যার অন্ধকার নেমে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধা সাতটার দিকে সাংবাদিক পরিচয়ে তার বাড়িতে যায় চারজন ব্যাক্তি। চার জনের মধ্যে একজন সাক্ষাৎকার নিবে মর্মে মেয়ে ও বাবাকে ঘড়ের ভিতরে ডেকে নেয়। বাবার অন্ধের সুযোগে মেয়েকে শ্লীলতা হানী করা হয়।
এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে শনিবার( ১৮ ডিসেম্বর) বড়াইগ্রাম থনায় মামলা করেছেন।অভিযুক্ত ব্যাক্তির নাম সাহাবুল ইসলাম (৩০)। তিনি উপজেলার খাকসা গ্রামের আব্দুর রহমানের পুত্র।

আব্দুর রহিম বলেন, তারা চারজন সাংবাদিক পরিচয়ে আমার দোকানে আসে। তারা বলে আপনাকে নিয়ে পত্রিকায় খবর ছাপিয়ে সহযোগীতার ব্যাবস্থা করে দিব। সাহাবুল ইসলাম আমার মেয়ে ও আমাকে সাক্ষাৎকার নিবে বলে ঘরে ডেকে নেয়। ভিতরে ঢুকে বারবার আমাকে বলে আপনি কি কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। আমি বলি দেখতে পাই না। তখন আমার (১১) বছরের মেয়েকে শ্লীলতাহানী করে। প্রায় আধা ঘন্টা যাবত তার সাথে এরকম করা হয়। কিন্তু আমাকে বিভিন্ন কথা বললেও সাক্ষাৎকারের বিষয়ে কিছুই বলেনাই।

তিনি আরো বলেন, আমি মান সম্মানের ভয়ে কাউকে জানাইতে পারছিনা। আমি অন্ধ মানুষ আমার মেয়ের কলঙ্ক প্রকাশ পায় সমাজের কাছে আমি মুখ দেখাব কি করে। আবার এই ঘটনা মেনে নিতে পারছিনা।

ঐ মেয়েটি জানান, তার মুখ চেপে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর জায়াতে হাত দেয়। আমি চিৎকার দিতে চাইলে ঘড়ে থাকা বটি দিয়ে আমাকে ও আমার বাবাকে মেরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়।

মুজাহিদ হোসেন বলেন, আমিসহ সাহাবুল ইসলাম, নাইম সরকার ও বিপ্লব হোসেন সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলাম। আমাদেরকে রেখে সাহাবুল ইসলাম ঘড়ের ভিতরে গিয়েছিল। তবে কি সাক্ষাৎকার নিছে তা আমাদের জানা নেই।

বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি অমর ডি কস্তা বলেন, তারা কোন প্রেসক্লাবের সদস্য বা আদৌ সাংবাদিক কিনা আমার জানা নাই। তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দাবি করছি।

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, মেয়েটির মা বাদী হয়ে শনিবার থানায় মামলা করেছে। আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।