
এস এম তাজাম্মুল, মণিরামপুরঃ সাত মাসের অন্তঃসত্বা এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে মারধরের পর গা ঢাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সৈকত বিশ্বাস নামে এক সাবেক বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘঠনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ও সাংবাদিকদের সাথে মোটা অংকের অর্থের লেনাদেনের দেনদরবারে মরিয়া হয়ে উঠেছে অভিযুক্ত সাবেক বিজিবি সদস্যের স্ত্রী (মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা) এবং কুলটিয়া ইউনিয়নের নাম করা সুদে কারবারি প্রদীপ বিশ্বাস। চাঞ্চল্যকর এ ঘঠনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২রা জুন) যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের কুলটিয়া বাজার মোড়ে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত গোপালগঞ্জ জেলার সাবেক বিজিবি সদস্য সৈকতকে ২রা জুন রাতে অন্তঃসত্বা সনাতনী নারী প্রেমা বিশ্বাস ফুলকীর (১৮) স্বামী অভিজিৎ বিশ্বাস ও স্থানীয়রা মারধর করে। ধর্ষণ চেষ্টাকারী লম্পট সাবেক বিজিবি সদস্য সৈকতের মারধর করার একটি ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়াতে বিপাকে পড়েছে ন্যাক্কারজনক এ ঘঠনা ধামাচাপা দিতে চাওয়া অভিযুক্তের স্ত্রী ও স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। তথ্য মোতাবেক, ভুক্তভোগী অন্তসত্বা নারীর স্বামী অভিজিৎ বিশ্বাস কাজের সুবাদে মাছের ঘেরে থাকায় মঙ্গলবার(২রা জুন) দুপুরে নির্জন বাড়ি পেয়ে লম্পট সাবেক বিজিবি সদস্য ঐ নারীর ঘরে প্রবেশ করে। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে শয্যায় পেয়ে আত্মীয়তার সুযোগে সেবা করার উদ্দেশ্য তার পাশে বসে নানা রকম অশ্লীল কথা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীর পায়ে হাত দিয়ে পরিহিত পোশাক আলগা করার চেষ্টা করে এবং ঐ নারীর শরীরের উপর পশুর মতো ঝাপিয়ে পড়লে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে দ্রুত পালিয়ে যায় ঐ নরপশু সৈকত! গোপন ক্যামেরায় ধারনকৃত ভিডিওতে এমনই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী অভিজিৎ বিশ্বাসের মামা বিদ্যুৎ বিশ্বাসের স্ত্রী। তবে লোক লজ্জার ভয়ে ও প্রভাবশালী মহলের চাপে সাংবাদিক ও থানা পুলিশের সামনে আসতে রাজি হননি অসুস্থ ঐ নারী অন্তঃসত্ত্বা প্রেমা বিশ্বাস ফুলকি।
এ বিষয়ে পাঠকপ্রিয় স্থানীয় দৈনিক যশোর বার্তার মণিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি সহ কয়েকজন সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত সৈকত মন্ডল ও তার স্ত্রী, বাড়ির মালিক বল্টু বিশ্বাস, ধামাচাপার সহযোগী প্রদীপ বিশ্বাস সহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। এ ঘঠনায় সাংবাদিকদের সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আলামত সংগ্রহে কুলটিয়া মোড়ে যান মণিরামপুর থানা পুলিশের একটি টিম। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী অভিজিৎ বিশ্বাস জানান, আমি গরীব মানুষ, আমার বাড়িতে ঔষধ কেনার টাকা নাই,আমি কোন ঝামেলা চাইনা!
সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক, বুধবার সন্ধ্যায় ধামাচাপা দিতে চাওয়া ঐ লোকজন শালিসের আয়োজন করলেও সাংবাদিক ও পুলিশের উপস্থিতিতে তা পন্ড হয়ে যায়। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘঠনার সত্যতা যাচাইয়ে থানা পুলিশের টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আবু সাঈদ। তবে এখনো পর্যন্ত মণিরামপুর থানায় কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.