
মণিরামপুর প্রতিনিধিঃ যশোরের মণিরামপুর পৌরশহরে ফায়ারসার্ভিস ও মাইক্রোস্যান্ড সংলগ্ন মোহনপুর সরদার পাড়া জামে মসজিদে প্রবেশ ও মোহনপুর ওয়ার্ডের প্রায় শতাধিক পরিবারের যাতায়াত রাস্তার মাঝ বরাবর পিলার স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। সম্পূর্ন আইন বহির্ভূত ও অমানবিক এহেন ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডে অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার মৃত গোলাম রহমানের ছেলে মোঃ আঃ লতিফের বিরুদ্ধে। পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের স্থানীয় মুসল্লীদের নামায আদায়ের জন্য মসজিদে আসার রাস্তা ও জৈনক মোঃ ইজ্জত আলীর বাড়ির গেটের সামনেই একাধিক সিমানা পিলার স্থাপন করায় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবী করেছে ভুক্তভোগীরা।
তথ্য মোতাবেক, ২০২৫ সালের ৫ই জুলাই মণিরামপুর পৌরসভার ৩জন সার্ভেয়ারের মিলিত একটি টিম ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তির উপস্থিতিতে পৌরসভার দূর্গাপুর মৌজার জেল নং ১০০ এর আরএস ৬২০,৬২৩ নং দাগে ক্রয়সূত্রে মালিক মোঃ ইজ্জত আলীর বসতবাড়ির সীমানা নির্ধারনী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় প্লটের পার্শবর্তী ফায়ার সার্ভিস ও সরদার বাড়ী মসজিদ স্থাপনা আছে। উল্লেখিত মসজিদ ও ইজ্জত আলীর বসতবাড়ির মাঝ বরাবর একটি চলাচলের রাস্তা থাকলেও চলতি মাসের ১৮ (শনিবার) তারিখে ভোর ৬টা নাগাত পার্শবর্তী জমির মালিক আঃ লতিফ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে লোকজন ভাড়া করে এনে ঐ চলাচলের রাস্তার মাঝ বরাবর সিমেন্টের পিলার স্থাপন করেছে! এমন একটি ভিডিও সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুকে শেয়ার করেন ইজ্জত আলীর ছেলে জামিরুল ইসলাম। মসজিদ ও চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার দৃশ্য মুহুর্তে ভাইরাল হয়। অভিযোগ উঠেছে ভিডিও ধারনের সময়ও জামিরুলকে পিলার স্থাপনকারী ভাড়াটিয়া কয়েকজন ব্যাক্তি হুমকিও দিতে থাকে।
পরবর্তীতে অভিযোগকারী জৈনক মোঃ ইজ্জত আলীর তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কয়েকজন সাংবাদিক সরেজমিনে গেলে, মসজিদে নামায আদায় করা মুসল্লীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এভাবে রাস্তা বন্ধের কোন নিয়ম নাই। গলির জমি মসজিদ বা পার্শবর্তী ইজ্জত আলী বলেন তাহলে আঃ লতিফ কেনো পিলার বসাবেন।
এ বিষয়ে ইজ্জত আলী অভিযোগ করেন,আমরা বাড়ি হতে বের হতে পারছিনা। গেট বরাবর পিলার দিয়েছে প্রধান সড়ক পর্যন্ত। সরকারি টিউবওয়েল থেকে স্থানীয়রা পানি নিতো সেটার পাইপ নষ্ট করেছে। আঃ লতিফ ও তার ভাইয়েরা এ এলাকার পুরাতন প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের কাছে সবাই জিম্মি। ইজ্জত আলীর ছেলে জামিরুল ইসলাম জানান,ভিডিও ধারন করায় তারা প্রান নাশের হুমকিও দিয়েছে, আমরা এখন নিরাপত্তা হীনতায় আছি।
এ বিষয়ে মসজিদ ও এলাকাবাসীর যাতায়ত পথ বন্ধ করা আঃ লতিফের ভাই আঃ জলিলের সাথে কথ হলে তিনি জানান, সরকার বলেছে যার জমি সে সীমানা নির্ধারন করে নিন। আমরা মসজিদের জমি দাতা সে সূত্রে দখলের পিলার দিয়েছি।
পবিত্র মসজিদে নামাজে যাতায়তে বাধা দেওয়ার মতো এহেন ন্যাক্কারজনক ঘঠনা মণিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনকে অবগত করলে তিনি জানান, ভুক্তোভোগীরা এসে লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.