মিষ্টার বাপ্পী ,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: বিমল চৌধুরী ও বিনতা চৌধুরীর তিন পুত্র সন্তানের মধ্যে জেষ্ঠ্য বাবুলাল চৌধুরী ! ১৯৭০ সালে জন্ম গ্রহণকারী বাবুলাল চৌধুরী মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৮৮ সালে মনিরামপুর সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস এস সি পরীক্ষা দিয়েই সংসারের অভাবের কথা মাথায় নিয়ে কাজের সন্ধানে চলে যান যশোর শহরে এবং স্বর্ণশিল্পী হবার বাসনা নিয়ে যোগ দেন সালেহা জুয়েলার্সের কারখানায় ! সেখানে কখনো বা অনাহারে কখনো বা অর্ধাহারে দিন কাটতে থাকে এবং ভালো স্বর্ণশিল্পী হবার আসায় কাজের শেষে কারখানায় ঘুমিয়ে পার করেন টানা ৫ বছর ! পরবর্তীতে কাজ শেখার পর স্বর্ণশিল্পী / কারিগর হিসেবে আরও ৪ বছর কাজ করেন অন্যের দোকানে !

এভাবেই কেটে যায় যৌবনের সোনালী মুহূর্তের ৯টি বছর ! তারপর ১৯৯৮ সালে স্বর্ণশিল্পী বাবুলাল চৌধুরী ফিরে আসেন নিজ বাড়ি মনিরামপুরে এবং পারিবারিক সিদ্ধান্তের আলোকে কোটচাঁদ পুরের কাকলী চৌধুরীর সাথে শুভ পরিণয়ে আবদ্ধ হন ! নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে পা রাখেন সংসার জীবনে এবং সাধ্যমতো মনোনিবেশ করেন সমাজ কর্মে অতঃপর কাটিয়ে দেন আরও দুটি বছর ! ১৯৯৯ সালে গড়ে তোলেন নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চৌধুরী জুয়েলার্স ! চলতে থাকে তার সমাজ কর্ম ! এলাকার তরুণ সমাজকে খেলায় উদ্বুদ্ধ করতে একাধিক বার আয়োজন করেন গনেশ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট,ব্যাডমিন্টন টুনামেন্ট, এছাড়াও মনিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী বই মেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার সাংগঠনিক পথ চলা !

২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন সংশপ্তক শিল্পী সংগঠন যা বর্তমানে মনিরামপুরের সর্ব বৃহৎ সংগঠন গুলির মধ্যে একটি ! ২০০৮ সালে ব্যপক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মনিরামপুর পৌর পূজা উৎযাপন পরিষদের সাধারন সম্পদাক হিসাবে নির্বাচিত হন, ২০১০ সালের পৌর নির্বাচনে ০৩ নং ওয়র্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হন এবং মাত্র ৭১ ভোটে পরাজিত হন ! ২০১১ সালে ওয়ার্ড আওয়ামিলীগের ভোটের মাধ্যমে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন, ঐ বছরই জুয়েলারী সমিতির যুগ্ন সাধারন সম্পদাক পদ লাভ করেন, এই ভাবেই মানুষের সুখে দুখে পাশে থেকে চলতে চলতে ২০১৬ সালে আবার পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হন এবং ভোটের মাঠে বিক্ষিপ্তত কিছু ঘটনার কারনে আবারও ভোট যুদ্ধে পরাজিত হন !

জনসেবা এতটাই তাকে পেয়ে বসে যে নানা সমস্যা ও নিজের অর্থনৈতিক ক্ষতিকে উপেক্ষা করেও হাল ছেড়ে দেয়নি, ২০১৯ সালে মনিরামপুর কেন্দ্রীয় দোলখোলা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ! ২০২১সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে আবারও ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং তুমুল জনপ্রিয়তা নিয়ে বাবুলাল চৌধুরী নির্বাচনে জয় লাভ করেন ! বর্তমানে দুই পুত্র সন্তানের জনক ! সদা হাস্যজ্বল, মিশুক প্রকৃতির ! সমাজ কর্মে নিবেদিত প্রাণ ! কাউন্সিলর বাবুলাল চৌধুরী ওয়ার্ডবাসীর জীবন মান উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন ! উদ্দেশ্য একটাই ০৩ নং ওয়ার্ডটি হবে ভবিষ্যতের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল ওয়ার্ড