মনির খান, স্টাফ রিপোর্টার:  নড়াইলের লোহাগড়ায় বাতাসী গ্রামের গৃহবধূ আফরোজা (২২)কে তালাক‌ নামায় স্বাক্ষর নিয়ে স্বামীর সংসার ছাড়তে বাধ্য করেছে ভাসুর শরীফুল ইসলাম ও টুকু মোল্লা ।

এ ঘটনায় আফরোজা বেগম বাদী হয়ে নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের শেখপাড়া বাতাসী গ্রামের আহাদ শেখের ছেলে সজীবুল ইসলামের সাথে মাকড়াইল গ্রামের আবুল কাশেম মোল্লার মেয়ে আফরোজার শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। বিবাহ ১ বছর না যেতেই আফরোজা হাতে পায় তার স্বাক্ষরিত তালাক নামা।

আরো জানা যায় আফরোজা ও টুকু মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে পরকিয়া প্রেম। টুকু মোল্লা মাকড়াইল গ্রামের মৃত্যু সাত্তার মোল্লার ছেলে।

নাম না বলতে অনিচ্ছুক এক জন প্রতিবেশি পথচারী একদিন রাতে আফরোজা ও টুকু মোল্লার মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক দেখতে পায়, তখন আফরোজা দৌড়ায় পালিয়ে যায়, এবং টুকু মোল্লা ওই পথচারী প্রতিবেশীর হাত ধরে অনুরোধ করে কাউকে না বলার জন্য।

কিন্তু তিনি আফরোজার মাকে কথাটা না বলে পারলেন না,কারন আফরোজার স্বামীর সংসার টা যাহাতে ভেঙ্গে না যায়। জানা যায় বিবাহের পরে তাদের দু’জনের মধ্যে সুখের সংসার চলে আসছিল, আফরোজার অভিযোগ সূত্রে জানা যায় তার ভাসুর শরিফুল ইসলাম একদিন রাতে সু কৌশলে আফরোজাকে ব্যাংকের কিছু কাগজ পত্র লাগবে, সজীবুল বাড়িতে নাই, তাই তুমি একটু কাগজে স্বাক্ষর করে দাও তখন আফরোজা তার ভাসুর শরিফুল ইসলামের কথার অ মত না করে সরল বিশ্বাসে ওই কাগজে স্বাক্ষর করে দেয়।

এরপর থেকে গৃহবধূ আফরোজার ভাসুর শরিফুল ইসলাম আফরোজা কে মিথ্যা কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে তালাক নামা রেজিস্ট্রি করে এনে আফরোজার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। উক্ত ঘটনাটি আফরোজা তার স্বামী সজীবুল ইসলাম কে জানালে তার স্বামী সজীবুল ইসলাম কোন মতে ভাই শরিফুল ইসলামের কথা বিশ্বাস করে না।

আফরোজা তার পরকিয়ার কথা গোপন রেখে তার মায়ের কাছে মোবাইল ফোনে ঘটনা টি খুলে বলেন এবং তার বাবা আবুল কাশেম আফরোজা কে তার শশুর বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে।

এ ঘটনার ৩/৪ দিন পর আফরোজার ভাসুর শরিফুল ইসলাম আফরোজার বাবা মা কে জানায় যে আপনার মেয়ে আমার ভাইকে তালাক দিয়েছে। পরবর্তীতে একটি তালাক নামার একটি কপি পাঠায় দেয়।

পরবর্তীতে ওই তালাকের কপি নিয়ে আফরোজা নড়াইলে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, আফরোজার বাবার ব্যবসায়ী পার্টনার কথিত ব্যবসায়ী টুকু মোল্লার সাথে আফরোজার শারীরিক সম্পর্ক রহিয়াছে, যা গ্রামের অনেকেই জানেন।

এবং আফরোজার অবৈধ প্রেমের শারীরিক সম্পর্ক অনেকের মধ্যে জানাজানি হওয়ার কারণে আফরোজার ভাসুর সুকৌশলে তালাকনামা রেজিস্ট্রি করে আফরোজার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

উক্ত ঘটনার খলনায়ক টুকু মোল্লা। টুকু মোল্লা আফরোজা ও তার বাবা মা কে ভুলভাল বুঝিয়ে গ্রামের নিরীহ মানুষদের কে বিভিন্ন ধরনের মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে হেনস্তা করছে। গ্রামের ওই সমস্ত লোকজন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।