
ফয়সাল আজম অপু, সুনামগঞ্জ থেকে ফিরেঃ হাওর আর ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত তাহিরপুরে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত নানা জায়গা।
শীতের শুরুতে যান্ত্রিক জীবনের ফাঁকে প্রকৃতির সৌন্দর্যের সান্নিধ্য পাওয়া যাবে এ উপজেলায়। তাহিরপুরের অন্যতম পর্যটন স্পটগুলো হলো টাংগুয়ার হাওর, বারেক টিলা, জাদুকাটা নদী, নীলাদ্রি (শহীদ সিরাজ লেক), জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান ও হাওলি জমিদার বাড়ি।
টাংগুয়ার হাওর
[caption id="attachment_134514" align="alignright" width="246"]
টাংগুয়ার হাওর[/caption]
টাংগুয়ার হাওর দেশের অন্যতম জলাভূমি। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও তাহিরপুরের উপজেলার দশটি মৌজায় এই হাওর বিস্তৃত। ছোট-বড় ১২০টি মিলিয়ে এ হাওর এলাকার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে ২ লাখ ৮০ হাজার ২৩৬ হেক্টরই জলাভূমি।
বর্ষা মৌসুমে পুরো হাওর পানির নিচে তলিয়ে যায়। শীতে সুদূর সাইবেরিয়া ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে পরিযায়ী পাখি উড়ে আসে এ হাওরে। পরিযায়ী পাখির আশ্রমও বলা হয় এ হাওরকে। তবে কালের বিবর্তনে হাওরে পাখির সংখ্যা দিন দিন কমলেও সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সঙ্গে পাখির কলরবে ভরে উঠবে পর্যটকের মন।
[caption id="attachment_134516" align="alignleft" width="300"]
নীলাদ্রি লেক[/caption]
নীলাদ্রি লেক
বাংলার কাশ্মীর হিসেবে সুপরিচিত তাহিরপুরের নীলাদ্রি লেক বা শহীদ সিরাজ লেক। এ স্থানটি চুনাপাথরের পরিত্যক্ত খনির লাইম স্টোন লেক। উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের টেকেরঘাট গ্রামে লেকটি অবস্থিত। লেকের নীল পানি, ছোট-বড় টিলা এবং পাহাড়ের সমন্বয় নীলাদ্রি লেককে করেছে অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী।
[caption id="attachment_134507" align="alignright" width="300"]
বারেক টিলা[/caption]
বারেক টিলা
তাহিরপুরের আরেকটি দর্শনীয় স্থান হলো বারেক টিলা, যা স্থানীয়দের কাছে বারিক্কা টিলা নামে পরিচিত। একে বাংলার আইফেল টাওয়ারও বলেন অনেকে। এ টিলার তলদেশ দিয়ে বয়ে গেছে জাদুকাটা নদীর স্বচ্ছ পানি। সাদা মেঘ এ টিলাকে ছুঁয়ে গেলে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। তাহিরপুর এসে বারেকটিলা না দেখলে হয় না।
[caption id="attachment_134509" align="alignleft" width="300"]
জাদুকাটা নদী[/caption]
জাদুকাটা নদী
স্বচ্ছ নীলাভ পানির জাদুকাটা নদী ভারতের খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ে উৎপত্তি। নদী থেকে বালু ও নুড়ি পাথর উত্তোলন করে তাহিরপুর ও পাশের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অধিকাংশ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। নদীর স্বচ্ছ পানির নিচে চিকচিক করে সাদা নুড়ি।
[caption id="attachment_134506" align="alignright" width="300"]
জয়নাল আবেদীনের শিমুল বাগান[/caption]
জয়নাল আবেদীনের শিমুল বাগান
উপজেলার মানিগাঁও গ্রামে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় শিমুলবাগান। ১০০ বিঘার বেশি জায়গাজুড়ে ২০০২ সালে ৩ হাজার শিমুলগাছ রোপণ করেন বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন।
বসন্তে লাল শিমুলের রক্ত লাল পাপড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। একদিকে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের সৌন্দর্য, অন্যদিকে জাদুকাটা নদীর তীরে শিমুল বাগান পর্যটকদের মন ভরিয়ে দেয়।
[caption id="attachment_134508" align="alignleft" width="300"]
হাওলি জমিদার বাড়ি[/caption]
হাওলি জমিদার বাড়ি
তাহিরপুর উপজেলার অন্যতম প্রাচীন একটি নিদর্শন হাওলি জমিদার বাড়ি। এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সংরক্ষণ করছে সরকার। বলা হয়, ১ হাজার ২০০ বছর আগে লাউড় রাজ্যের রাজপ্রাসাদ হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাজা বিজয় সিংহ এটি নির্মাণ করেন।
উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামটি এক সময় লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল। এই লাউড় রাজ্যের শেষ নিদর্শন হাওলি জমিদার বাড়ি। বাড়িটি ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত। ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংরক্ষিত করার ঘোষণা দেয়।
কীভাবে আসবেন তাহিরপুরে!
তাহিরপুর আসতে ঢাকা থেকে প্রথম গন্তব্য সুনামগঞ্জ। ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল বাসস্ট্যান্ড থেকে মামুন, শ্যামলী এবং হানিফ পরিবহনের বাস সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মহাখালী থেকে ছাড়ে এনা পরিবহনের বাস। জনপ্রতি টিকিটের দাম ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। সুনামগঞ্জে আসতে সময় লাগে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা।
সুনামগঞ্জ শহরে থেকে অটোরিকশায় আব্দুর জহুর সেতুতে এলেই সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল ভাড়া করে জাদুকাটা নদী পার হয়ে সরাসরি বারেক টিলায় যাওয়া যায়। চাইলে তাহিরপুর বাজারে গিয়ে নৌকা নিয়েও এসব জায়গা ঘুরে দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে ভাড়া একটু বেশি পড়বে।
টিলায় থাকার ব্যবস্থা না থাকলেও প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে টাংগুয়ার হাওর বা নীলাদ্রি লেকে তাঁবু টানিয়ে রাত কাটানো যায়।
তাহিরপুরের বাদাঘাট বাজারে মক্কা টাওয়ার নামের একটি থাকার হোটেল রয়েছে। খাবারের জন্য তেমন বড় কোনো হোটেল না থাকলেও আশেপাশের বাজারে কিছু ছোট দোকান আছে। সেখান বসে বা কিনে নিয়ে খাবার খাওয়া যায়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.