
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নড়াইল জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রশিক্ষণার্থী তালিকা তৈরি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ কার্যক্রমে অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশিক্ষণের নামে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ নয়-ছয় করা হয়েছে এমন অভিযোগ এখন নড়াইল যুব উন্নয়নের আনাচে-কানাচে ঘুরপাক খাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশিক্ষণার্থী এবং একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসসহ বিভিন্ন সময়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ভুয়া প্রশিক্ষণার্থী তালিকা তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিশেষ করে সরকারের ইমপ্যাক্ট-৩ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানান, বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন প্রকল্পে একই স্থাপনার ছবি একাধিকবার ব্যবহার করে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে। এছাড়া ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে উপকারভোগীদের কাছ থেকে অগ্রিম ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক সুবিধা ছাড়া কোনো ঋণ ফাইলে স্বাক্ষর করতেন না নড়াইল যুব উন্নয়নের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান।
এছাড়াও, তার বিরুদ্ধে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমেও বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। পছন্দের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান এবং অপছন্দের ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ খোদ যুব উন্নয়ন অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। গোপালগঞ্জে শ্বশুরবাড়ী হওয়ায় অতীতে আওয়ামী লীগের প্রভাব ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করলেও বর্তমানে নিজ এলাকা শালিখার ক্ষমতাসীন দলের এক হেভিওয়েট নেতার পরিচয়ে দপ্তরের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
তারা আরও জানান, নারী প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে অহরহ। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগীরা প্রকাশ্যে কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) প্রণয়নে জালিয়াতি, বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের অর্থ নয়-ছয় এবং অফিসের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটিয়েছেন উপ-পরিচালক মনিরুজ্জমান। বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় দেখিয়ে প্রকৃত কাজের তুলনায় অধিক অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দীর্ঘদিনের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করায় উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান বর্তমানে অন্যত্র বদলির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অনিয়মের অভিযোগ থাকার পরও তিনি প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বদলি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলেও জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
এবিষয়ে বিভিন্ন ট্রেডের তালিকা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের মুঠোফোনে কল দিলে তারা যুব উন্নয়নে কখনো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি এবং তালিকায় কিভাবে তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর আসলো তা জানেন না বলেও জানান। এমনকি ভুয়া তালিকা তৈরি করায় তারা অনেকে ক্ষোভ প্রকাশও করে এর সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ আংশিক স্বীকার করেছেন নড়াইল জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভুলের উর্ধ্বে কেউই নন। আমি এখানে যখন নতুন যোগদান করি, তখন কিছু অনিয়ম হয়েছে এ কথা সত্য। তবে এরপর আর কোনো অনিয়ম হয়নি। আমি নিয়ম মেনেই কাজ করি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নিরপেক্ষে তদন্ত করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করারও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.