
নিজস্ব প্রতিনিধি: যশোর সামাজিক বন বিভাগের দুর্নীতির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রকাশের পর দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন ডেপুটি রেঞ্জার মিজানুর রহমান। যশোর প্রেসক্লাবের এক সিনিয়র সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতার মাধ্যমে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়ে হামলা মামলার হুমকি প্রদান করছেন ওই সাংবাদিক। যশোর সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন প্রতিটি রেঞ্জ অফিস থেকে মাসিক ট্রানজিট পারমিট বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব টাকা কাগজে-কলমে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) অনিতা মন্ডলের নামে উত্তোলন দেখানো হলেও বাস্তবে সেই অর্থের নিয়ন্ত্রণ ও বণ্টন করছেন ডেপুটি রেঞ্জার মিজানুর রহমান এমন অভিযোগ একাধিক সূত্রের। অনুসন্ধানে জানা যায়, যশোর সদরের ডেপুটি রেঞ্জার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বন, প্রকল্প ও রাজস্ব খাতকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাঠবোঝাই ট্রাক আটকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। কার্যত ট্রানজিট পারমিটকে ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ করাতকলগুলোও এই সিন্ডিকেটের নিয়মিত আয়ের উৎস বলে অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অনুমোদনহীন করাতকলগুলো থেকে মাসিক নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসোহারা আদায় করা হচ্ছে। বিনিময়ে এসব করাতকলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান চালানো হয় না। জেলা পরিষদসহ সরকারের বিভিন্ন বনের গাছ পাচারের অভিযোগ আরও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। সূত্রের দাবি, কিছু ফরেস্টার ও মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের সঙ্গে আতাত করে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। পাচার হওয়া গাছের একটি বড় অংশ যায় ব্যক্তিগত করাতকল ও কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছে। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন ভাগ করে নেওয়া হয়। সরকারি বন সৃজন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ সবচেয়ে ভয়ংকর। বন সৃজনের নামে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় বন সৃজনের কোনো অস্তিত্বই নেই। কোথাও কোথাও নামমাত্র কয়েকটি চারা রোপণ করে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের ভুয়া কাগজ তৈরি করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার নামে বরাদ্দকৃত অর্থ যে কীভাবে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তরিত হচ্ছে, এই প্রকল্পগুলো তার জ্বলন্ত উদাহরণ। এছাড়াও, সরকারি বিভিন্ন দিবস পালন, সভা-সেমিনার ও আপ্যায়ন খরচের নামেও নিয়মিত অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। বাস্তবে স্বল্প পরিসরের আয়োজন হলেও কাগজে-কলমে কয়েকগুণ বেশি ব্যয় দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর। গাছ বিক্রির টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও রয়েছে ভয়াবহ অনিয়ম। টেন্ডার থেকে কমিশন আদায়ের পাশাপাশি টেন্ডার বর্হিভূত গাছ কর্তন করে বিক্রি করা হচ্ছে দেদারছে। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো ছোট গাছের টেন্ডার দেখিয়ে বড় ও মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা সরাসরি বন আইনের লঙ্ঘন। এতসব অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন মহলের নীরবতা প্রশ্ন তুলছে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়েও। পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, অবিলম্বে স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন না হলে যশোরের সামাজিক বন বিভাগ থেকে বন নয়, কেবল দুর্নীতির চিহ্নই অবশিষ্ট থাকবে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে জোর গুঞ্জন উঠে^ছে। প্রশ্ন উঠেছে, দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার খুটির জোর কোথায় ? কার ইন্দনে এই কর্মকর্তা অবাধে ঘুষ-বানিজ্য ও অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করছেন ? কার অনুমতিতে বা ছত্র-ছায়ায় তিনি এহেন কর্মকান্ত পরিচালনা করছেন এমন প্রশ্ন সর্বমহলের। অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতনমহল।
সূত্র: দৈনিক বিডি খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.