
যশোর কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্য কালোমুখ হনুমানের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। খাদ্যের সন্ধানে তারা এখন দল ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন গ্রাম মহল্লায়। বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার করছে গ্রামবাসীর উপর।
কালোমুখ হনুমানের জন্য খ্যাত কেশবপুর উপজেলা। জনশ্রুতিতে প্রচার রয়েছে প্রায় ৪শ’ বছর আগে মাড়োয়াড়িরা তাদের শখের বসে এই কালোমুখ হনুমানকে সাথে নিয়ে আসছিল। কালের বিবর্তনে এর সংখ্যা বিলুপ্ত হতে হতে এখন হাতে গোনার মতো হয়েছে। প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক এই কালোমুখ হনুমানকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। ২১ শতকের প্রথমে এর সংখ্যা ছিল ৫৮৫। গত ২ দশক পরে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪শ’ এর মতো। এই কালোমুখ হনুমানকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ভাবে প্রতিদিন তাদের মাঝে বিভিন্ন রকম খাবার বিতরণ করা হয়ে থাকে।
কেশবপুর উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাহরাম জানান, বর্তমানে কেশবপুরে হনুমানের সংখ্যা রয়েছে ৪শ’ এর মতো। কেশবপুরের প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি ভাবে তাদের জন্য খাদ্য খাবার বিতরণ করা হয়ে থাকে। ৭ সদস্যের হনুমানের খাদ্য তদারকি কমিটির তদারকিতে যশোরের ১৮ বি কে রোডের মেসার্স আলমগীর ট্রেডাস নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের খাদ্য খাবার বিতরণ করেন। তাদের খাদ্যের তালিকায় রয়েছে পাকা কলা-৫৪ কেজি, বাদাম-৮ কেজি ও পাউরুটি-৬ কেজি। কেশবপুর ৬ টি পয়েন্টে এই খাদ্য খাবার বিতরণ করে থাকে। খাদ্য খাবার বিতরণের পয়েন্টগুলো হলো কেশবপুর উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল চত্বর, সাহাপাড়া, বালিয়াডাঙ্গা দেবালয়ে, ব্রহ্মকাটি, রামচন্দ্রপুর ও মনিরামপুর উপজেলার দূর্গাপুর এলাকা।
কেশবপুর উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাহরাম আরো জানান, কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। তাদের খাবারের পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। গ্রামবাসীর উপর অত্যাচার ঠেকাতে তাদের জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.