যশোরের কেশবপুর উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দীন এর বদলিজনিত কারণে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

২০ নভেম্বর (রবিবার) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে সদ্য বিদায়ী অফিসারকে ফুলেল শুভেচ্ছো ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন এবং নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোঃ মফিজুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি এম এম আরাফাত হোসেন সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বিমল কুমার কুন্ডুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরিফুজ্জামান, উপজেলা কৃষি অফিসার ঋতুরাজ সরকার, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার সজীব সাহা, কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোঃ মফিজুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পুলোক কুমার সিকদার, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার আব্দুস সামাদ, থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রায়হান আহম্মেদ বাপ্পি, ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শামীম আখতার মুকুল।

সদ্য বিদায়ী ২০২১ সালের ১৯ এপ্রিল কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসাবে যোগদান করেন।
তিনি ১ বছর ৭ মাস এ উপজেলায় পুলিশের কর্ম-দক্ষতা ও সততার সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন।

উক্ত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন সদ্য বিদায়ী অফিসার সম্পর্কে বলেন, তিনি একজন মেধাবী অফিসার ছিলেন, তার পরবর্তী কর্মস্থলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

সদ্য বিদায়ী বোরহান উদ্দীন বলেন, কেশবপুর উপজেলার মানুষ খুবই শান্তি প্রিয়। চাকরি জীবনে এখানে এসে আমি যাহা শিখতে পেরেছি তা অবশ্যই আমার পরবর্তী কর্মস্থলে অত্যন্ত কাজে দিবে।


এখনকার মানুষের কথা জানতে চাইলে অশ্রুশিক্ত হয়ে তিনি বলেন, আমার চাকুরী জীবনে এখানকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া স্নেহ ও ভালোবাসা আমার জীবনে সুখ-স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন অফিসার হয়ে এই থানায় দায়িত্ব পালনকালে আমার কর্মের ভিতর দিয়ে অনেকের মনে হয়তো কষ্ট দিয়ে থাকতে পারি। অনেক সময় অনেকের দাবি-দাওয়া হয়তো আমি পূর্ণ করতে পারিনি। তবে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য কখনও কারো ক্ষতি করিনি, তবে সততার সাথে সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি।

পুলিশের পেশাদারী দায়িত্ব পালনকালে যদি কারো সাথে খারাপ আচারণ করে থাকি তাহলে আপনারা নিজ গুনে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং নতুন কর্মস্থলে পুলিশ বাহিনীর সুনাম অক্ষুন্য রেখে আমার অর্পিত দায়িত্ব সততা, ন্যায়-নীতির সঙ্গে পালন করতে পারি, সেজন্য আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।