আত্মমানবতার সেবায় হাতটি বাড়িয়ে একটি হুইলচেয়ার প্রদান করে জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিম (১২) এর মুখের হাসি ফিরিয়ে দিয়েছেন ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুরjV উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (১৩জুন) দুপুরে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের দিনমজুর মিজানুর রহমান এর ছেলে প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের বাড়িতে গিয়ে ওই হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়।
[caption id="attachment_104761" align="alignnone" width="300"]
প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের মুখে হাসি[/caption]
উল্লেখ্য, কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের দিনমজুর মিজানুর রহমান এর ছেলে মুস্তাকিম হাসান (১২) জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। শিশু মুস্তাকিমের হাত-পা চিকন ও বাঁকা হওয়ায় হামাগুড়ি দিয়েও চলাফেরা করতে পারেনা, এমনকি হাত দিয়ে মুখে খাবার পর্যন্ত তুলে খেতে পারে না।
জন্মের পর থেকে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠায় প্রতিবন্ধী শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েন হতদরিদ্র পিতা-মাতা। পিতা দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। জরাজীর্ণ মাটির ঘরে তাদের বসবাস। অল্প উপার্জনে সংসার চলে অভাব-অনাটনের মধ্যে দিয়ে।
দ্রারিদ্রতার কষাঘাতে দিনমজুর পিতার পক্ষে প্রতিবন্ধী পুত্রের জন্য একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের কাছে প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য অসহায় পিতামাতা একটি হুইল চেয়ারের সহযোগিতা চেয়েও সেটি পাইনি,
পেয়েছে শুধুই আশ্বাস। শুধুমাত্র একটি হুইল চেয়ার হলেই প্রতিবন্ধী মুস্তাকিমের জীবনের অনেকটা কষ্ট কমে যাবে। চলাফেরা করার জন্য একটি হুইল চেয়ারের আকুতি জানান প্রতিবন্ধী মুস্তাকিম ও তার পরিবার।
ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্দ্যোগে গত বুধবার (২৫ মে) উপজেলার শেখপুরা গ্রামে হতদরিদ্র পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করতে গেলে দেখা মেলে রাস্তার পাশে একটি চেয়ারে বসে থাকা প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের।
ওই সময় তাকে দেখে ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি'র কেশবপুর উপজেলার সভাপতি মোটরসাইকেল থেকে নামার সাথে সাথেই মুস্তাকিম বলতে থাকে আমার একটা গাড়ী চাই, আমার গাড়ি চাই, আমি গাড়ি চড়বো। তার আকুতি শুনে খুবই খারাপ লাগলো।
এমন একটি নির্মম দৃশ্য দেখে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য শরীরে হাত দিলেই শিশু মুস্তাকিম নীরবে কাঁদতে থাকে, কোন ভাবেই কান্না থামেনা, ওই সময় সামান্য কিছু টাকা মুস্তাকিমের হাতে তুলে দিয়ে মুখের হাসিটা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তারই পাশাপাশি প্রতিবন্ধী মুস্তাকিমের বিষয়টি সত্যিই হৃদয় বিদারক হওয়ায় মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে শিশু প্রতিবন্ধী মুস্তাকিমকে খুব দ্রুত সময়ের একটি হুইলচেয়ার দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন সংগঠনের সভাপতি। তারই প্রেক্ষিতে সোমবার (১৩ জুন) দুপুরে শিশু মুস্তাকিমের বাড়িতে গিয়ে একটা হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়েছে।
হুইলচেয়ার পেয়ে প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের পিতা মিজানুর রহমান বলেন, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আমার ছেলেটা জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী হলেও স্বামী-স্ত্রী মিলে কখনো তার অযত্ন বা অবহেলা করিনি।
ছেলেটা ধীরে ধীরে বড় হওয়ায় অনেক কষ্ট হয় তাকে নিয়ে চলাফেরা করতে। সংসারে অভাব অনাটন থাকায় ছেলেটির একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমার ছিলো না।
জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের কাছে প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য একটি হুইল চেয়ারের সহযোগিতা চেয়েছিলাম, কিন্তু সেটি কখনো পাইনি, তাদের কাছ থেকে পেয়েছিলাম শুধুই আশ্বাস।
আজ বাস্তবে আমার ছেলের একটা হুইলচেয়ার পেয়ে খুব খুশি। এখন থেকে ছেলের চলাফেরা করতে অনেকটা কষ্ট কম হবে এবং আমাদেরও কিছুটা কষ্ট দুর হবে।
এ ব্যাপারে ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি'র কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শামীম আখতার মুকুল বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের বিষয়টি খুবই মানবিক।
খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে একটা হুইলচেয়ার দিতে পেরে আমি নিজে এবং সংগঠনের নেতৃবৃন্দ যে আত্মতৃপ্তি পেয়েছে, সেটা কখনো ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।
প্রতিবন্ধী, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ইতিপূর্বেই অনেক কার্যক্রম করা হয়েছে আগামীতেও এমন ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এই সমাজে বিত্তবান ও সম্পদশালী যারা আছেন,
তাদের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ রইলো মানবতার হাতটি বাড়িয়ে এলাকার প্রতিটা এতিম, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জীবনের কিছুটা কষ্ট দূর করে তাদের মুখে হাসি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.