
কিংবদন্তি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে দলমত-নির্বিশেষে হাজারও মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে ভোলার পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
এর আগে বেলা একটা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে বর্ষীয়ান এই নেতার মরদেহ ভোলায় আনা হয়। ৯ বারের এই সংসদ সদস্যের মৃত্যুর খবরে পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শুরুর আগে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠকের মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে গার্ড অব অনারের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা জানায় জেলা প্রশাসন।
তোফায়েল আহমেদের জানাজায় অংশ নিতে বেলা সাড়ে ১২টা থেকেই তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে পুরো স্কুল মাঠে মানুষের ঢল নামে। ভোলা খলিফা পট্টি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জমির উদ্দিন এই জানাজায় ইমামতি করেন।
বিগত সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও তোফায়েল আহমেদের জানাজায় দলমত-নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
জানাজায় ভোলা জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্যসচিব রাইসুল আলম ছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), কমিউনিস্ট পার্টি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সুশীল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারও মানুষ অংশ নেন।
ভোলা সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের বাড়িতে। সেখানে বাড়ির মসজিদ প্রাঙ্গণ মাঠে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে মা ও বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.