জামালপুর প্রতিনিধিঃ বাল্যবিবাহ সামাজিক ব্যাধি, সবাই মিলে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করি এই স্লোগানকে পিছনে রেখে জামালপুরের মেলান্দহে উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের শিক্ষক- মেম্বার, স্বাস্থ্য কর্মি ও কাজির যোগসাজেশে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন।
ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নে আলাইরপাড় গ্রামে।আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডে মেম্বার মো: শাহজাহানের একমাত্র মেয়ে বাঘাডোবা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রী খুশি মনি (১৫) কে ঐ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নুরে আলমে সাথে ০৫/৮/২১ তারিখে ভুয়া নিবন্ধন দেখিয়ে এবং শাহজাহানে দ্বিতীয় মেয়ে পরিচয়ে করোনার মধ্যে সরকারী আইন অমান্য করে ঐ ছাত্রীর বাড়ীতে বসবাস রত শিক্ষক যিনি নিজেই সাব কাজির দায়িত্ব পালন করেন।
সেই সাব কাজি বাঘাডোবা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মঈন উদ্দিন ( ময়না) মাষ্টার নিজ নাবালিকা ছাত্রীকে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জোর পুর্বক বিবাহ আবদ্ধ করান।
বিবাহ রেজিস্ট্রি করা কাজি মঈন উদ্দিনকে কেন নিজ নাবালিকা ছাত্রীকে তথ্য গোপন করে বাল্যবিবাহ করালেন তার জবাবে তিনি জানান - আমি জন্ম নিবন্ধন দেখে বিবাহ পড়িয়ছি। হ্যা আমি জানি শাহজাহান মেম্বারের একটি মেয়ে খুশি মনি দশম শ্রেনির ছাত্রী। এখন কই থেকে শাহজাহানের সেলিমা নামে আরেকটি মেয়ের ১৮ বছরের নিবন্ধন এনে আসল মেয়ে খুশি মনিকে বিয়ে দিলো আমি তা বলতে পারবো না।
আদ্রা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও উদ্দ্যেক্তা রাসেল জানান - শাহজাহান মেম্বার আমাদের পরিষদের সদস্য হওয়ায় তার কথা মানতেই হয়। আমার কাছে একটা টিকার কার্ড এনে দিয়ে জোর করে নিবন্ধন বের করে দিতে আমি বাধ্য হয়ে মুর্খ/ অশিক্ষিত দেখিয়ে নিবন্ধন করে দিয়েছি।
টিকার কার্ড সরবরাহ কারী স্বাস্থ্য সহকারী / টিকাদান কর্মী জুলেখা কে কেন দশম শ্রেনির ছাত্রী খুশিমনিকে সেলিমা আক্তার সাজিয়ে ১৮ বছরের সাবালিকা বানালেন এই প্রশ্নের উত্তরে জুলেখা সাংবাদিকদের জানান- আমার কাছে যা বলেছে আমি তাই লেখেছি।আমার রেজিস্টারে সব আছে। উল্লেখ্য যে,যেই খুশি মনি সেই সেলিমা আক্তার। সেলিনা আক্তারের ইপিআই টিকাদান কার্ড ( কিশোরী?মহিলা) এর যা উল্লেখ্য আছে,রেজিস্টশন -৩ রেজিস্ট্রেশনের তারিখ১৮/১/২০২০ নাম সেলিমা আক্তার,জম্ম তারিখ ১০/০৭/২০০৩ নিবন্ধন নং নাই।মাতার নাম মোছাঃ নারগীস,পিতার নাম - মো: শাহজাহান, গ্রাম - আলাইরপাাড়,উপজেলা - মেলান্দহ, জেলা - জামালপর,ইউনিয়ন- ৬ নং আদ্রা,ওয়ার্ড নং ০৩,কেন্দ্রের নাম - আলাইরপাড় সিসি,সাব ব্লক- গ/১,স্বাস্থ্যসহকারি/ টিকাদান কর্মীর নাম; জুলেখা,মোবাইল নম্বর ০১৭৬৭----১৬০।টিটি/টিডি-১ টিকাপ্রদানের তারিখ: ১৯/১/২০২০
টিটি/টিডি -২ টিকাপ্রদানের তারিখ: ১৬/২/২০২০
টিটি/টিডি -৩ টিকাপ্রদানের তারিখ: ১৬/৮/২০২০
টিটি/টিডি -৪ টিকা পাওয়ার তারিখ: ১৬/৮/২০২১
ভালো করে কার্ডে খেয়াল করলে সহজেই বুঝা যাবে কতোটা গরমিন। রেজিস্ট্রশন ২০/১/২০২০ টিকা দেয় ১৯/১/২০২০। স্কুলের নথি তে জম্ম তারিখ ১/১০/২০০৬ আর টিকার কার্ডে ১০/৭/২০০৩। এই ভাবে স্বাস্থ্য কর্মী অর্থের বিনিময়ে অসংখ্য টিকার কার্ড দিয়ে বাল্যবিবাহ ও বয়স কমবেশি করণে অনিয়মে আশ্রয় নিয়ে তথ্যসেবা কেন্দ্রে কাজে গতিবিধি ও সরকারের সু নাম প্রতিনিয়ত নষ্ট করছে। এ যেন বেড়ায় ক্ষেত খাওয়ার মতো। যারা আজ সমাজে নিজেদের কে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য/ লিডার বলে বক্তব্য রাখছে সেই সমস্ত শিক্ষক, মেম্বার, নেতা,স্বাস্থ্য কর্মীরাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবেএই বাল্য বিবাহ সংগঠিত করাচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.