নুরুজ্জামান সরকার, নীলফামারীর জেলা প্রতিনিধিঃ

Active Citizens- British Council এর COP26- Youth Engagement Challenge Fund বিজয়ী Shamasundori: The Name of Resilience প্রজেক্ট এর আওতায় শ্যামাসুন্দরী খালের হারানো ঐতিহ্য ও প্রাণ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এ বছরের মে থেকে রংপুরের স্বেচ্ছাব্রতীরা কাজ করে চলেছে৷

আজ ২৬শে মে, সকাল ৯ টায় Youth Engagement to Save Shamasundori নামে উক্ত প্রোজেক্টের একটি অনলাইন কর্মশালা পরিচালিত হয়৷

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু (সভাপতি, সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক, রংপুর মহানগর),ডক্টর শাশ্বত ভট্টাচার্য (সম্পাদক, উত্তরবাংলা ডট কম) এবং ডক্টর তুহিন ওয়াদুদ (সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিচালক, রিভারাইন পিপল)।

কর্মশালা টি রংপুর জেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এর তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে আয়োজিত হয়৷
শুরুতেই ছিল ব্যতিক্রমধর্মী পরিচিতিপর্ব৷ পরিচিতি পর্বের পর প্রজেক্ট পরিচিতি উপস্থাপন করেন প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. তারিফ-উল ইসলাম তানিন৷ এরপর শুরু হয় অতিথিদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান৷ যেখানে শ্যামাসুন্দরী এর উৎপত্তির ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে বক্তব্য রাখেন- ডক্টর শাশ্বত ভট্টাচার্য৷ তিনি অনেক সহজ সাবলীল ভাষায় শ্যামাসুন্দরীর ইতিহাস তরুণদের সামনে তুলে ধরেন৷

তিনি বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাজা জানকি বল্লভ সেন শ্যামাসুন্দরী প্রণালী টি গ্রহণ করেন, এবং ১৮৯০ থেকে ১৮৯৪ সালের মধ্যে এ প্রণালীর কাজ শেষ হয়৷ যার পরেই, ম্যালেরিয়ার প্রবল গ্রাসে আক্রান্ত রংপুর- একটি পরিষ্কার,পরিচ্ছন্ন শহর এ রূপান্তরিত হয়৷ সেই ঐতিহ্য থেকে সরে এসে বর্তমান সময়ে, শ্যামাসুন্দরীর যে বেহাল দশা পরিলক্ষিত হয় – তা নিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শ্যামাসুন্দরীর হারানো ঐতিহ্য ও প্রাণ ফিরিয়ে আনতে তরুণদের একসাথে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেন৷

শ্যামাসুন্দরী কে বাঁচাতে তরুণদের সম্পৃক্ততা কেন জরুরি? এবং এর বর্তমান অবস্থা ও বিবর্তনের জন্য কে বা কারা দায়ী?- এ বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন- অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু৷ তিনি তার বক্তব্যে, অবৈধ দখলদারদের উদ্দেশ্য করে বলেন- বর্তমানে শ্যামাসুন্দরীর যে বেহাল দশা হয়েছে, তার জন্য অনেকাংশে দায়ী এই অবৈধ দখলদাররা৷ এছাড়া কোন মাস্টার প্ল্যান ছাড়া অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাল পুনঃখনন এর জন্য স্থানীয় সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি তার মতামত প্রকাশ করেছেন৷ শ্যামা সুন্দরী কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার জন্য তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি কিছু প্রস্তাবনা পেশ করেন এবং তাদের সাথে নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন৷

এরপর, শ্যামাসুন্দরীর পূর্ণতার সীমাবদ্ধতা বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য তুলে ধরেন, ডক্টর তুহিন ওয়াদুদ৷ তিনি তার বক্তব্যে স্থানীয় সরকারের কিছু অপারগতা তুলে ধরেন এবং শ্যামাসুন্দরী কে বাঁচানোর জন্য সরকারের যেসব পরিকল্পনা বা মাস্টারপ্লান ছিল তা পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন এবং রক্ষকই যেন ভক্ষক না হয় সেদিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷ তিনি আরো বলেন, শ্যামাসুন্দরী কে নষ্ট করছে সেখানকার লোকজন৷ তাই তাদেরকে আগে এগিয়ে আসতে হবে শ্যামাসুন্দরীর প্রাণ ফিরিয়ে আনার জন্য ৷

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণরা শ্যামাসুন্দরী বাঁচাতে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দেন৷ সেই সাথে সম্মানিত আলোচক বৃন্দ আশা প্রকাশ করেন- এই সকল তরুণদের সাথে নিয়ে শ্যামাসুন্দরী বাঁচাতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে শ্যামাসুন্দরী ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য।

পরিশেষে প্রজেক্ট কোর্ডিনেটর শ্যামাসুন্দরী নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের কথা বলে, সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মশালার সমাপনী ঘোষণা করেন।