সর্বস্তরে স্মৃতিসৌধ বাস্তবায়ন আন্দোলনের পথচলা– আনুষ্ঠানিক প্রকাশ: রবিবার, ২৬শে মার্চ ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ।

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূলে রয়েছে মুক্তিকামী বাংলার মানুষের স্বধীকার আদায়ের আন্দোলন। মুক্তির জন্য, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনকল্পে মুক্তির দূত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোহরায়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চ যে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন তাতে সাড়া দিয়ে শিশু যুবক সহ সকল বয়সীদের অংশগ্রহণে আজকের বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে ।

স্বধীনতার মৌলিকত্ব আজ বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে স্বগৌরবে এগিয়ে যাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশ। নিজস্ব অহংকার, আত্মপরিচয় ও জাতিসত্ত্ব বিকাশের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে সোনার বাংলাদেশ।

১৯৫২ ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ ছয় দফা আন্দোলন, ১৮৬৯ গন‌অভু্্যথান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সূচিত গতিধারা প্রবল থেকে প্রবলতর হয়েছে।

বাংলার মুক্তিকামী মানুষের রাজনৈতিক দর্শনের শক্ত ভিত্তির উপরেই তৈরি হওয়া স্বাধীনাতা আন্দোলনের পটভূমি থেকে ” সর্বস্তরে স্মৃতিসৌধ বাস্তবায়ন আন্দোলন”।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ন্যায়বিচার এই চার মূলনীতির উপর ভিত্তি করে ‘সর্বস্তরে স্মৃতিসৌধ বাস্তবায়ন আন্দোলনে’র পথচলা।

এই আন্দোলনের প্রথম ও প্রধান দাবী সরকারী অর্থায়নে দেশের প্রতিটা জেলা, উপজেলা এমনকি শিক্ষাঙ্গনগুলোতে জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করতে হবে।

এছাড়াও প্রতিটি জেলা শহরে মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স নির্মাণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও বধ্যভূমি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, প্রতি জেলায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর স্থাপন করা,স্মৃতিসৌধের পাশে অত্র জেলা- উপজেলার উল্লেখযোগ্য শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ফলক আকারে লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণ করা অন্যতম।

আমাদের চিন্তা-চেতনা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, ধর্ম নিরপেক্ষ সমাজ, বৈষম্যহীন ও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখানো ও বাস্তবায়ন।

সেই আলোকে স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষের পাশে দাঁড়িয়ে মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফুলঝুরি ইতিহাস বিকৃত করার তাণ্ডবে মানুষের যখন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা ঠিক এমন সময়ে ২০১৯ সালের বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব ইকরামুল কবির বাবলু দাদার হাতে হাত রেখে সৃষ্টি হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবীতে ” সর্বস্তরে স্মৃতিসৌধ বাস্তবায়ন আন্দোলন”।

মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি, আলবদর, রাজাকার তথা মৌলবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ, বিজয়ের প্রতীক স্মৃতিসৌধ সর্বস্তরে বাস্তবায়নের দাবীতে রবিবার, ২৬শে মার্চ ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সমৃদ্ধ মুজিবনগরের মাটিতে সোচ্চার হয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার মাধ্যমে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরদের মিলন মেলায়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা, সহিত্যিক, রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিকর্মী ব্যাক্তিতদের নিয়ে গঠিত হয় ‘সর্বস্তরে স্মৃতিসৌধ বাস্তবায়ন আন্দোলন।

যেখানে ইকরামুল কবির বাবলু দাদাকে আহবায়ক ও মির্জা গালিব উজ্জ্বলকে সদস্য সচিব, যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে অধ্যপক রফিকুর রশীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ খন্দকার হাফিজ ফারুক, অধ্যপক আবদুল্লাহ আল আমিন ধুমকেতু, মীর দিনার হোসেন, আবুল বাশার এবং এনামুল হক এনাম, কামরুন্নেছা তানিয়া, অধ্যাপক গৌতম বসু, কুটু জোয়াদ্দার, সালেহ কাজল, অভিজিৎ বসুকে কার্যকরী সদস্য হিসেবে সকলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বস্তরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাস্তবায়ন আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাস অমলিন রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে এসেছে সমাজের ও রাষ্ট্রের মঙ্গল চাওয়া কণ্ঠস্বরদের একত্রিত ভাবনা। একাত্মতা ঘোষণা করেছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। একই ভাবে বাংলাদেশের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ১৩ ডিসেম্বর মোমবাতি প্রজ্বলন, ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস ও ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস, মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সভ্রম হারানোদের স্মরণ করতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য সর্বস্তরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে স্মৃতিসৌধ বাস্তবায়নের দাবি জানাই।