নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পাঁচ মেয়র প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। সিটি নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট কম পাওয়ায় পাঁচজন মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।

ওই পাঁচ মেয়র প্রার্থী হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাছুম বিল্লাহ্, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলাম।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে হয় একজন প্রার্থীকে। পাঁচ মেয়র প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশের কম ভোট পেয়েছেন। এ কারণে তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্রসহ মেয়র পদে সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৮৬ ও নারী ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১১ জন। হিজড়া ভোটার ৪ জন। সিটির ২৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার ৯১১। ভোট বাতিল হয়েছে ৭৭১টি।

পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাছুম বিল্লাহ্। তিনি ভোট পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৮৭ ভোট। তার পরের অবস্থানে আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন। দেয়ালঘড়ি প্রতীক নিয়ে তিনি ভোট পেয়েছেন ১০ হাজার ৭২৪। মাছুম বিল্লাহ্ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ৬০ থেকে ৭০ হাজার ভোট পেতেন। কিন্তু ইভিএমের মাধ্যমে কারচুপি করে সুকৌশলে তাঁদের ভোটের ফল কমিয়ে দেখানো হয়েছে। এ কারণে তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইভিএমের কারণে ভোট প্রদানে ভোটারদের খটকা লেগেছে। আমি নিজেই তিন-চারটি ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোট দিতে পেরেছি।’ রাশেদ ফেরদৌস বলেন, তিনিসহ আরও চারজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ইভিএমে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ছিল। সেই সঙ্গে সাধারণ অনেক ভোটারের উপস্থিতি কম হওয়ায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি।

এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, ইভিএম নিয়ে মানুষের মধ্যে শুরু থেকেই সংশয় ছিল। অনেকে ভোট দিতে পারেননি। এ কারণে কম ভোট পাওয়া নিয়ে অস্পষ্টতা আছে।