এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ দিন যতই যাচ্ছে ঘনিয়ে আসছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। আসন্ন এ নির্বাচনে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি আসনে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ ও জটিলতা। চলতি এ প্রতিবেদনে যশোর-৫ মণিরামপুরে মনোনয়ন দৌড়ে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলেও বর্তমানে মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রশীদ আহমেদ ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম.ইকবাল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে এখনো পর্যন্ত ভোট যুদ্ধে মাঠে আছে। অপরদিকে প্রথম থেকে একক প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী প্রচারনায় সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এড গাজী এনামুল হক। তবে দীর্ঘ সময় পর বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে ভোটাধিকার প্রয়োগে জন্য উচ্ছাসিত সাধারণ ভোটারদের মধ্য দেখা দিয়েছে হতাশা!ভোটের আগেই সাধারন ভোটাররা পড়েছেন বিএনপির স্থানীয় নেতা কর্মীদের পক্ষপাতিত্বের বিপাকে। যদিও ইসির নির্দেশনায় প্রতীক পাওয়ার আগে কোন ধরনের প্রচারনা প্রার্থীরা করতে পারবেনা উল্লেখ থাকলেও সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সুযোগ পেলেই কৌশলে স্ব স্ব প্রার্থীর জন্য ভোট কামনা করে চলেছেন বিভিন্ন সভা বা অনুষ্ঠানে।
তথ্য মোতাবেক,যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হিসাবে প্রথম পর্যায়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম ইকবাল হোসেনের নাম ঘোষনার কয়েকদিনের মধ্যে জোট শরীক দলের আরেক নেতা মা.রশীদ আহমেদের নাম ঘোষনার পর হতে উপজেলা বিএনপিতে দেখা দেই চরম ক্ষোভ! হঠাৎ প্রার্থী পরিবর্তনে সংসদীয় আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতির কর্মী সমার্থকরা বিক্ষোভ,সমাবেশ,মিছিল এমনকি শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে সড়ক অবরোধ করে বিএনপির হাই কমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিগত দিনে দূ-র্দীনের বিএনপির রাজপথের মূল্যায়নে পুনরায় এম. ইকবাল হোসেন'কে মনোনীত করার দাবী জানায়। ২৬ ডিসেম্বর হতে টানা বিক্ষোভের তৃতীয় দিনে পৌরসভার সামনে সড়ক অবরোধ রেখে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন যে,বিএনপির দূর্দীনের নেতা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম.ইকবাল হোসেন'কে পুনরায় প্রার্থী ঘোষনার আগ পর্যন্ত আমরা কেউ ঘরে ফিরে যাবোনা। পরবর্তীতে কয়েকটি সভা ও অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন কার্যক্রমে একত্রে থেকে এম ইকবাল হোসেনের পক্ষে কাজ করলেও হঠাৎ চলতি মাসের ৬ তারিখে উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত এক দোয়া মাহফিলে বিএনপির প্রতীক হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতাকর্মীদের নিয়ে মাওলানা রশীদ আহমেদের হাতে ধানের শীষ তুলে দেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু। ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির মিজানুর রহমান সহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক,উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মুতাহিরুল ইসলাম রিয়াদ, সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন,উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইউনুস আলি জুয়েল, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম,কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন সহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। একই বহরে ৯ই জানুঃ উপজেলার দূর্বাডাংগা ইউনিয়ন বিএনপির মোঃ আলতাফ হোসেনের উপস্থিতিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রশীদ আহমেদ ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টুকে অথিতি করে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে অংশ গ্রহন করে।
উল্লেখ্য,ধানের শীষ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে নেতৃবৃন্দ আগামী নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এবং মণিরামপুরে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ ঘোষণার পর হতে মণিরামপুরে বিএনপি সমার্থিত সাধারণ ভোটারদের মধ্য দেখা দিয়েছে নানান জল্পনা-কল্পনা।
অনেক ভোটাররা ভাবছেন বিএনপির প্রার্থী দুই জন হলে ভোট দিবেন কাকে! এদিকে প্রার্থীতা পরিবর্তনে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম ইকবাল হোসেন'কে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান মফিজ,পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ খায়রুল ইসলাম,সাধারন সম্পাদক আব্দুল হাই,সিনিয়র সহ সভাপতি সন্তোষ স্বর সহ দলীয় সিনিয়র অনেক নেতা এখনো পর্যন্ত শক্ত অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনে সাধারণ মানুষের মতামত প্রকাশের জরীপ বলছে,একদিকে দলীয় প্রার্থীর পাল্লা ভারী করতে ও বিএনপির সদ্য চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।অপরদিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মী সহ বিএনপি সমার্থকরা মতামত দিচ্ছেন,ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ সময়টাতে উপজেলা বিএনপি হিসাবে যাকে দেখে আসছে নেতাকর্মী ও মণিরামপুর বাসী,দূর্দীনে কর্মীদের খোজ যে নেতা নিয়েছে,বিপদ আপদে সাধারণ মানুষের পাশে বিএনপির পক্ষে যে দাড়িয়েছে সে নেতার মূল্যায়ন করলে স্বতন্ত্র প্রার্থীকেই ভোট দিতে হবে।
উপজেলা বিএপনির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু সহ যে সমস্ত নেতাকর্মীরা কয়েকদিন আগেও রাজপথে দাড়িয়ে জোটের প্রার্থী মাওলানা রশীদ আহমেদের বিপক্ষে থেকে মণিরামপুরে এম ইকবাল হোসেনের ত্যাগ ও উপজেলা বিএনপির অভিভাবক মেনে পুনরায় প্রার্থীতা নিয়ে রাজপথ ছাড়বেন বলে হুংকার দিয়েছিলেন! মুঠোফোনে কথা হলে সে সমস্ত নেতা-কর্মীরা বলছেন!এমনকি সর্বশেষ দূর্বাডাংগা ইউনিয়নের বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলেও পরিষ্কার বলছেন,দলীয় প্রতীকের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই! যে কোন মূল্যে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।
মাওলানা রশীদ আহমেদ বলছেন ,বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ দল আমাকে দিয়েছে। এবার এমপি নির্বাচিত হয়ে আমার পিতা মরহুম মুফতী মোহাম্মদ ওয়াক্কাস আহমেদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও মণিরামপুর বাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করতে চাই ইনশাআল্লাহ।
অপরদিকে মণিরামপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত করার মাধ্যম দেশের মানচিত্রে জনতার এমপি নির্বাচিত হয়ে মণিরামপুর বাসীর সেবা করে যাবেন বলে জানান মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী এম.ইকবাল হোসেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.