
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আজ (সোমবার, ০৩ অক্টোবর) মহা অষ্টমী। মহাষষ্ঠীতে মহিষাসুর মর্দিনী দেবীর আবাহনের মধ্য দিয়ে গত (০১ অক্টোবর) শুরু হয়েছে ৫ দিনের শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে, বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫ দিনের এ মহোৎসব। এদিনের পূজা শুরু হয় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা।
রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনসহ কয়েকটি স্থানে প্রতিবছরের মতো এবছরও কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধিপূজা শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪৪ মিনিটে ও সমাপন বিকেল হবে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে।
দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী ছিল রবিবার (৩ অক্টোবর)। রাজধানীসহ সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে যথাযোগ্য ভক্তিতে পূজা-অর্চণার মাধ্যমে মহাসপ্তমী উদযাৎপিত হয়।
সপ্তমীর সকালে পূজার শুরুতেই দেবী দূর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান করানো হয়। এরপর করা হয় নবপত্রিকা স্থাপন। নবপত্রিকার আরেক নাম হলো কলা বৌ স্নান। এছাড়া চক্ষুদানের মাধ্যমে দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
পূজা শেষে ভক্তরা হাতের মুঠোয় ফুল ও বেলপাতা নিয়ে মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে দেবীর পায়ে এবারের পূজার প্রথম অঞ্জলি দেন। করজোরে কাতর কণ্ঠে জগজ্জননীর কাছে শান্তিময় বিশ্বের প্রার্থনা করেন তারা। ঢাকের বাদ্য, কাসর ঘণ্টা কিংবা শঙ্খধ্বনিতে দেবীর আরাধনার পাশাপাশি সবকিছুতেই যেন ছিল একই চাওয়া।
মহা ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) শুরু হয় পাঁচদিনের সর্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বুধবার (৫ অক্টোবর) এ মহোৎসব শেষ হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানায়, সারাদেশে এ বছর ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরে পূজার সংখ্যা ২৪১টি।
পূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি উদযাপন কমিটিও আলাদা করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। প্রতিটি মণ্ডপে লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। মণ্ডপ পাহারা দেওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি করা হয়েছে।
কলমকথা/এমএনহাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.