ময়মনসিংহের ২৮ বছরের যুবক নাহিয়ান আল রহমান অলি। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের ওপর স্নাতক। তিনি তৈরি করেছেন একটি রকেট, যার নাম ‘ধূমকেতু’। এটি এখন মহাকাশের পথে ওড়ার জন্য প্রস্তুত। সরকার অনুমতি দিলেই তিনি এটি মহাকাশে পাঠাবেন।
অলি এই প্রতিবেদককে নিজের সম্পর্কে বলেন, ২০১৯ সাল থেকে ‘ধূমকেতু-১’ নাম দিয়ে চলা এই রকেট প্রজেক্টের কাজ শুরু হয়। টানা তিন বছর ধরে চলতে থাকা গবেষণা আলোর মুখ দেখে ২০২২-এ। এখন শুধু ওড়ার অপেক্ষায়। সরকার অনুমতি দিলেই উৎক্ষেপণ করা হবে। তিনি জানান, ধূমকেতু প্রজেক্টটি শুরু হয় ২০১২ সালে। কিন্তু অর্থায়নের অভাবে থেমে যায়। তবে দমে যাননি অলি।
যৎসামান্য নিজস্ব অর্থায়ন আর ব্যাংক ঋণ এই প্রজেক্টের অর্থের উৎস- জানিয়ে এই তরুণ বলেন, আমার এই কাজে সরাসরি সহযোগিতা করেন সাইদুর, নাদিম, লিয়ান, আবরার, রিজু, বিন্দু, নাইম, আশরাফসহ অনেকেই। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে তরল জ্বালানির ইঞ্জিন ডিজাইন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অর্থাভাবে ও করোনা মহামারি সংকটে তরল অক্সিজেনের দাম বৃদ্ধিতে প্রজেক্ট চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। ফলে বিকল্প হিসেবে সলিড ফুয়েলের ৪০০ নিউটন ও ১৫০ নিউটন থ্রাস্টের দুটি ইঞ্জিনের প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয় এবং রকেটের আকৃতি কমানো হয়। বর্তমানে ৬ ফুটের দুটি ও ১০ ফুট উচ্চতার আরও দুটি প্রোটোটাইপ রকেট লঞ্চ করার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।’
উল্লেখ্য, অলির সাফল্যের ঝুড়িতে আরও গৌরব রয়েছে। ২০১৯-এর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত টেকফেস্ট নির্বাচনী পর্বে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় ভারতের বিখ্যাত আইআইটি-তে অনুষ্ঠিত টেকফেস্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করেন অলি। সেখানে শীর্ষ-৫’এ অবস্থান করে সেমিফাইনালিস্ট হন।
অলি যে ল্যাবে টানা তিন বছর গবেষণায় লিপ্ত ছিলেন সে ল্যাবটির নাম আলফা সায়েন্স ল্যাব। ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সংলগ্ন ওই ল্যাবে যাতায়াত ছিল ময়মনিসংহ সিটি করপোরেশনের কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর এম এ ওয়ারেছ বাবুর।
অলি আরও বলেন, এরই মধ্যে বিভিন্ন জার্নালেও এই উদ্ভাবিত রকেট নিয়ে লিখছি। ওড়ার অনুমতি মিললে জার্নালটাও সাবমিট করা যেত। হয়তো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিও মিলত।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.