
রিপন বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলগুলোতে মানব পাচার চক্রগুলোর নেটওয়ার্ক অত্যন্ত গভীর। নড়াইল থেকে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে মানব পাচারের রহস্য ইতিমধ্যে উন্মোচন করেছে সাংবাদিকেরা। শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই অপরাধ ছড়িয়ে পড়ছে। দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব আর উন্নত জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সহজেই ফাঁদে ফেলে এই পাচারকারীরা।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের অক্লান্ত অনুসন্ধানে মাদারীপুরের ১৪ বছরের ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে নড়াইলে এনে বিভিন্ন নথিপত্র জাল করে পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে পাচারের রহস্য উন্মোচন হয়েছে। এঘটনায় কন্যা হারা পিতা পাচারকারী ভারতীয় নাগরিক আবির সহ নড়াইলের ৭জনের নামে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইবুনাল নড়াইল আদালতে মামলা করেছেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটির তদন্তের জন্য নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রাসেল সরোয়ারকে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্ত গত ১৬ সেপ্টেম্বর হতে এই সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত একজনও আসামি আটক হয়নি। অথচ আসামি ৮ জনের মধ্যে ৭জন নড়াইলের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ৭জনের মধ্যে ৩জন রাষ্ট্র নিযুক্ত কর্মচারী।
এদিকে মামলার বাদী মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার চৌরাশী গ্রামের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া সমাপ্তী বাড়ৈ(১৪) এর পিতা কালু বাড়ৈ এখনও পর্যন্ত মেয়ের কোন সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আর মামলার পিছনে লুকিয়ে থাকা মানব পাচারকারী ও সমাপ্তী বাড়ৈকে রুপসী রায় করা সহ সকল নথিপত্র নকল করে রাষ্ট্রীয় ভাবে অনুমোদন করিয়ে দেওয়া চক্রের তথ্য উদঘাটনকারী স্বাক্ষীরা নড়াইল সদর থানা পুলিশের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে অসহায় পিতাকে সম্পূর্ণ ভাবে সহযোগিতা করেছেন নড়াইল জেলার দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি ও রুর্যাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন(আরজেএফ) এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব সাজ্জাদ আলম খান সজল, দৈনিক ঘোষণার খুলনা বিভাগীয় বিশেষ প্রতিনিধি সুমন চক্রবর্তী, দৈনিক ভোরের পাতার নড়াইল প্রতিনিধি স্বপন কুমার দাস, দৈনিক রুপান্তর প্রতিদিনের নড়াইল প্রতিনিধি রিপন বিশ্বাস সহ নিখোঁজ সমাপ্তির বড় বোনের স্বামী কৃষ্ণ ভদ্র। সার্বক্ষণিক ভাবে এই ৪ জন সাংবাদিক নিখোঁজ মেয়েকে ফিরে পেতে কালু বাড়ৈকে সহযোগিতা করছেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। কিন্তু নড়াইল সদর থানা পুলিশের বর্থ্যতার স্পষ্ট ছাপ ফুটে উঠেছে। পাচারকারীদের স্পষ্ট তথ্য ও নথিপত্র জালকারীদের সকল ডকুমেন্টস মামলার সাথে সংযুক্ত করা থাকলেও থানা পুলিশের দায় এড়ানো মন্তব্য ভাবিয়ে তুলেছে সাংবাদিকদের।
আসামি আটকের ব্যাপারে জানতে চাইলে নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রাসেল সরোয়ার সংবাদকর্মীকে বলেন, রাজৈর থানার মামলা আপনারা আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। তদন্ত চলছে আসামি আটকের চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য যে, মাদারীপুরের সমাপ্তী বাড়ৈ তার পরিবারের কাছে দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস যাবৎ নিখোঁজ আছে। অনেক খোঁজাখুজির পর একপর্যায়ে কোন হদিস না পেয়ে সমাপ্তী বাড়ৈর পিতা কালু বাড়ৈ প্রথমে রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে এবং পাচারকারী চক্রের হাতে সমাপ্তী বাড়ৈ জিম্মি আছে উল্লেখ করে একটি অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইবুনাল নড়াইল আদালতে মামলা দায়ের করেন। যেহেতু আসামিরা নড়াইল জেলার। তাই থানা পুলিশের দায় এড়ানো মন্তব্য থেকে বেরিয়ে আসামিদের দ্রুত আটক করে, তাদের থেকে তথ্য বের করে অসহায় পিতাকে তার ১৪ বছরের মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবী জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.