একসঙ্গে, একসুরে হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক ‘মেসি, মেসি’ অনুরণনে কাঁপিয়ে দেয় স্টেডিয়াম। চাপা পড়ে অন্য সব আওয়াজ। অবাক হতে হয়। একতানে কীভাবে ওরা একই কোরাস গাইতে থাকে! এ যেন একই প্রাণ। এ যেন একই কণ্ঠ চিরে বেরিয়ে আসা জীবনের জয়গান। ওরা জয় চায়, মেসির কাছে। ওরা গোল চায়, মেসির কাছে। ওরা বিশ্বকাপের ট্রফি চায়, লিওনেল মেসির কাছে। সৌদি আরবের কাছে পরাজয়ের পর লিওনেল মেসির ওপর আস্থা ওদের একটুও কমেনি। নিন্দুকের তীব্র কটাক্ষে কেবল স্মিত হাসি উপহার দিয়েছে ওরা। জিজ্ঞেস করতেই বলেছে, অপেক্ষায় থাকো, মেসির কথা ভুলে যেও না।
তিনি লিওনেল মেসি। অনেকেই বলেন, সর্বকালের সেরা ফুটবলার। কেউ কেউ দ্বিমত পোষণ করলেও বলেন, সেরাদের মধ্যে অন্যতম। এর নিচে কেউ নামতে পারেন না। কারণ? তিনি গত প্রায় দুই দশক ধরে বাম পায়ের জাদুকে মোহিত করে রেখেছেন পুরো ফুটবল দুনিয়া। এক সময় তার ছিল দূরন্ত গতি। প্রতিপক্ষকে চিড়ে-চ্যাপ্টা করে গোল করে দিতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই গতিতে কিছুটা খামতি এলেও যোগ হয়েছে নানা কৌশল। শৈল্পিক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে কাবু করেন। মাঠে তাকে বল নিয়ে দৌড়াতে দেখলে মনে হয়, ফুটবলটা যেন তার কথা শুনছে। পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বুঝে যায়, ঠিক কোথায় যেতে হবে!
পোল্যান্ড ম্যাচে মেসি গোল করতে পারেননি। পেনাল্টিও মিস করেছেন। মেসির ওপরে কিছুটা কি অভিমান হয়েছে সমর্থকদের? আর্জেন্টিনার সিনিয়র সাংবাদিক লেভিনস্কিকে প্রশ্নটা করতেই বললেন, ‘বলো কী? যার ওপর আমরা বিশ্বকাপ ট্রফি জয় করার দায়িত্ব সঁপে দিয়ে নিশ্চিন্ত আছি, তার ওপর অভিমান! মোটেও নয়।’ পেনাল্টি মিসের পর মেসি দুটো গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। কিন্তু এসবকে মোটেও পাত্তা দিচ্ছে না আর্জেন্টাইনরা। তাদের সামনে আছে ম্যাচজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লিওনেল মেসির জাদুকরী মুহূর্ত। যেখানে প্রতিপক্ষ হাবুডুবু খায় তাল সামলাতে। যেন সাঁতার না জানা কেউ পড়ে গেছে গভীর জলে!
আট বছর আগে ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও স্বপ্ন দেখেছিল আর্জেন্টিনা। সেবার লিওনেল মেসি প্রায় একাই দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে। এবার মেসিকে সঙ্গ দিচ্ছেন লওটারো মার্টিনেজ, ডি মারিয়া, অ্যাকুনা, ফার্নান্দেজ আর আলভারেজরা। তাদের সঙ্গে নিয়ে লিওনেল মেসি এবার ঠিক পারবেন; এমন আস্থা আছে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
Copyright © 2026 kolomkotha. All rights reserved.