মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরোঃ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার অর্ধশতাধীক যুবকের প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে এক প্রতারক দম্পত্তি। জিসান ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরিজম ” এর নামে অফিস খুলে এই প্রতারণার জালে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। এঘটনায় আদালত ও থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, নগরীর তেঁতুলতলা মোড়ে ডাচবাংলা ব্যাংকের ভবনের উপরের একটি অংশ ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন ফেনীর দাগনভুইয়ার নুর মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ ফিরোজ রাশেদ ওরফে জিসান। তার সাথে প্রধান সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিলেন তার স্ত্রী শিলা খানম। প্রতিষ্ঠানের স্বতাধীকারী জিসান হলেও আর্থিক লেনদেনের মুল নিয়ন্ত্রন ছিল শিলার হাতে। বিশ্বাস অর্জনে ভুক্তভোগীদের সাথে নন- জুডিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি সম্পাদন, ভুয়া ভিসা প্রদর্শন, এমনকি ঢাকায় নিয়ে কথিত ট্রেইনিংয়ের নাটকও সাজাত এই চক্র। নগরীর নতুন রাস্তা এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় প্রাইভেটকার চালক আরমান জানান, ” খুব কম সময়ে সার্বিয়া পাঠানোর চুক্তিতে জিসানের স্ত্রী শিলা নতুন রাস্তা মোড়ে এসে আমাদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে যান। পরবর্তী আমাদের হাতে যে ভিসা ও যে ম্যানপাওয়ারের কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়, তা পুরোটাই ভুয়া ও জাল প্রমানিত হয়। অন্যতম ভুক্তভোগী হাসানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কজন মিলে প্রায় ১৪ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। আমাদের সার্বিয়ার জাল ভিসা ও এয়ার টিকিট দেওয়া হয়। গত ৮ আগষ্ট আমাদের ফ্লাইট থাকার কথা থাকলেও তার আগের দিনই তারা অফিস বন্ধ করে পালিয়ে যায়। পরে ঢাকায় গিয়ে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে খুলনা ফিরে আসি। এসে শুনি, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের প্রায় ৫০ জন যুবকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে কেটে পড়েছে এই দম্পত্তি। শেখ পাড়ার বাসিন্দা কুমকুম বেগম জানান, ” আমার বাসার পাশেই ওদের অফিস ছিল। বিশ্বাস করে স্বামীকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ডেনমার্ক পাঠানোর চুক্তি করি। কিছু টাকা দেওয়ার পর তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, জিসান – শিলা দম্পতি এই অঞ্চলের যুবকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। আগষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে তারা চুয়াডাঙ্গা জেলার একটি বর্ডার থেকে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করে। নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র জানিয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জিসান দালালদের মাধ্যমে ভারতে পালিয়ে যায়। কিন্তু তার স্ত্রী শিলা যেতে পারেনি। এদিকে কয়েকজন ভুক্তভোগী তাদের টাকা উঠানোর জন্য সরকারি বিএল কলেজ ছাত্রদলের একনেতা, দৌলতপুর থানার সাবেক একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং খুলনা রেলের একজন পুলিশের সহায়তায় শিলার নিকট থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করে। শিলা বাকি টাকা ভুক্তভেগীদের দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফের আত্মগোপনে চলে যায়। একাধিকবার জিসান ও শিলার ব্যবহ্নত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাদের বক্তব্যে নেওয়া সম্ভব হয়নি। খুলনা জজকোর্টের আইনজীবী এড. মোঃ মনিরুল ইসলাম পান্না জানান,” বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নালিশি আমলী আদালতে জিসান ও শিলার বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছিল। আদালত আবেদনটি এজাহার হিসেবে রুজু করার জন্য সোনাডাঙ্গা মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশে জিসান ট্রাভেলসের মালিক দম্পত্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতার ও খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে পুলিশি তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।