রবীন্দ্রনাথ সরকার, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৫নং লক্ষীটারী ইউনিয়নের ১, ২, ৩, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত ৬টি মৌজার প্রায় ৩৬০০ একর জমি প্যারাগন কোম্পানিকে লিজ দেওয়ার সম্ভাব্য উদ্যোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে মহিপুর ব্রিজের উত্তর পাশে লক্ষীটারী ইউনিয়নের সচেতন এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত মানুষ অংশ নিয়ে জমি রক্ষার দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ পরিবার বসবাস করে। এছাড়াও এলাকায় রয়েছে ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৫টি মসজিদ, ৭টি হাফিজিয়া মাদ্রাসা, ৩টি মন্দির এবং ৫টি হাট-বাজার। এমন বৃহৎ জনবসতিপূর্ণ এলাকার জমি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়া হলে হাজার হাজার পরিবার তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি ও জীবিকার উৎস হারানোর আশঙ্কায় পড়বে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী, সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান মাবু, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মমিনুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মমিনুর রহমান বলেন, “এই জমি আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ এখানে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে একটি কোম্পানির কাছে হাজার হাজার একর জমি তুলে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “এলাকার মানুষের স্বার্থ সবার আগে বিবেচনা করতে হবে। স্থানীয় জনগণের জমি, ঘরবাড়ি ও জীবিকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের মতামত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা এলাকাবাসীর জন্য ক্ষতিকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জনস্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই।”
বক্তারা আরও বলেন, উন্নয়নের নামে স্থানীয় জনগণকে উচ্ছেদ করে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে তা কখনোই টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। তারা অবিলম্বে ৬টি মৌজার ৩৬০০ একর জমি লিজ দেওয়ার সব ধরনের উদ্যোগ বন্ধ করার দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন। তাদের দাবি, স্থানীয় জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে কৃষিজমি, বসতভিটা ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।