বিশেষ প্রতিনিধিঃ যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় এক পাসপোর্টধারীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তাদের নিজ আস্তানা থেকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বেনাপোল পৌরসভার বড়আঁচড়া গ্রামের সলেমানের ছেলে হামিদ, ভবারবেড় গ্রামের মতরেবের ছেলে আতিকুর রহমান এবং শাহাজানের ছেলে রুবেল হোসেন।

ভুক্তভোগী জানান, চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার ভোরে তিনি বাস থেকে বেনাপোল চেকপোস্টে নামেন। এ সময় দ্রুত পাসপোর্ট প্রসেসিংয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৪-৫ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে এবং জোরপূর্বক একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জিম্মি করে সঙ্গে থাকা প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তিনি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সদস্যকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও চেকপোস্ট এলাকায় যাত্রীদের টার্গেট করে নানা কৌশলে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। সর্বশেষ এই ঘটনার পরপরই দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের ছত্রছায়ায় এসব প্রতারণা ও ছিনতাই দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকরভাবে দমন করা যাচ্ছে না। তাদের দাবি, প্রতিদিন অসংখ্য পাসপোর্টধারী যাত্রীকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। এমনকি অতীতে এদের হাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহল জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়ে গেছে। তাদের মতে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চক্রটি দলবদল করে একইভাবে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল বন্দর এলাকায় বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে, যারা বিভিন্ন মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করে যাত্রীদের টার্গেট করে।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, “প্রায়ই প্রতারকদের ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। কিন্তু তারা আবারও ফিরে এসে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।”

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিদিনই পাসপোর্টধারীদের কাছ থেকে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হলেও তা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার দেশি-বিদেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্রটি অনলাইন ট্যাক্স, দ্রুত সেবা ও দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি এড়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে যাত্রীদের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন কৌশলে তাদের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেয়।

দিনেদুপুরে এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।