
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক কর্মকর্তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং সেই ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক দম্পতিকে কুপিয়ে জখম ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় আদালতের নির্দেশে বর্তমানে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। তবে মামলা করার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রুয়েট কর্মকর্তা রাজিবুল হাসানের কাছে বেশ কিছু দিন ধরে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন জহুরুল হাসান নামে এক ব্যক্তি। রাজিবুল বিষয়টি তার বন্ধু শহিদুল হাসান শাহীকে জানান। শাহী এই চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করলে জহুরুল ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়।
গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় শহিদুল হাসান শাহীর বাড়ির সামনে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ নম্বর আসামি ইউসুফ আলীর নির্দেশে জহুরুল হাসান লোহার রড দিয়ে শাহীর ব্যবহৃত একটি নতুন মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন, যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
হামলার সময় শাহীর স্ত্রী তামান্না ইয়াসমিন বাধা দিতে গেলে তাকেও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ৫ নম্বর আসামি হাফিজা বেগম তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন এবং ৩ ও ৪ নম্বর আসামি মেহেদী হাসান সনি ও রফিকুল হাসান চন্দন তাকে মারধর করেন। এ সময় তামান্নার শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তামান্নাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে তিন দিন চিকিৎসা নিতে হয়।
ভুক্তভোগী তামান্না ইয়াসমিন জানান, সুস্থ হয়ে তিনি বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরে তিনি বাধ্য হয়ে রাজশাহী সিএমএম আমলি আদালতে মামলা (নং-১৩৮১ সি/২০২৫) দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বোয়ালিয়া থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এদিকে রুয়েট কর্মকর্তা রাজিবুল হাসানও থানায় অভিযোগ দিলেও তা এখনো আমলে নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
মামলা করার পর থেকে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন বাদী তামান্না। তিনি বলেন, “মামলা তুলে না নিলে আমাকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার দুই সন্তানকে হত্যা করে লাশ গুম এবং স্বামীকে গুলি করে মারার হুমকি দিচ্ছে তারা।” প্রাণভয়ে বর্তমানে তারা পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে মহানগরীর তালাইমারী কাজলা এলাকায় ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন।
শহিদুল হাসান শাহী বলেন, “আসামিরা একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে। আমরা এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ও বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, “মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। আমরা সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মেডিকেল সার্টিফিকেটের (এমসি) জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পেলেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।