দিপু মন্ডল প্রতিনিধি,মণিরামপুর: হাড় কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় যখন জনজীবন প্রায় স্থবির, তখন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নে পাঁচ কাটিয়া গ্ৰামে চপলা সরকার গড়ে ওঠা একটি জরাজীর্ণ পলিথিন দিয়ে ঝুপড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন চপলা সরকার মা ও ছেলে সুশান্ত দারিদ্র্য, নিঃসঙ্গতা ও তীব্র শীতের যন্ত্রণায় প্রতিদিনই নতুন করে দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। এই বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পেতে সরকারের কাছে একটি ঘরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মনিরামপুর উপজেলার পাঁচকাটিয়া এলাকার বাসিন্দা। এই সংসারে ছিল সুশান্ত স্ত্রী তিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে দারিদ্রতা ও অভাব অনটনের কারণে অকাল মৃত্যুবরণ করেন একটি পুত্র সন্তান রেখে নয় বছরের বর্তমানে মামার বাড়িতে থাকে জীবনের চরম অনিশ্চয়তা একসঙ্গেই বয়ে বেড়াচ্ছেন মা ও ছেলে।

সরেজমিনে মঠপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিন পাশ ঘেরা রাস্তায় ধারে পলিথিন দিয়ে ঘেরা নিচু ছোট্ট একটি ঝুপড়ি অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন বৃদ্ধা চপলা।

ভেতরে রয়েছে কয়েকটি থালা-বাসন ও একটি পুরোনো ভ্যান বডি তার উপরে ঘুমায় শীত নিবারণের জন্য আছে মাত্র কয়েকটি কাঁথা ও একটি জীর্ণ কম্বল। রাত নামলেই পলিথিন ফাঁক গলে হিমেল বাতাস ঢুকে পড়ে। শীত ঠেকাতে মশারির ওপর কাঁথা টানিয়ে কোনো রকমে রাত পার করার চেষ্টা করেন তারা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ চপলা ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। দু-একটি কথা বলেন, তাও অস্পষ্ট।
চপলা সরকারের প্রতিবেশী সাধনা দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর কে বলেন, তারা খুবই গরিব মানুষ। তাদের একমাত্র আয়ের উৎস একটি ভাঙ্গা ভ্যান।

তাদের থাকার ঘরটিও খুবই জরাজীর্ণ। এই তীব্র শীতে তাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। যেখানে ভাত জোগাড় করাই তাদের জন্য কঠিন, সেখানে ভালো ঘরে থেকে শীত নিবারণ করবেন কীভাবে?

আরেক প্রতিবেশী প্রান্ত বলেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রতিদিন ঐ ভাঙ্গা ভ্যান নিয়ে বের হয় ঠিক মত আয় হয় না। তা দিয়েই চলে তাদের সংসার। শীতের কারণে প্যাসেঞ্জার কমে যাওয়ায় ঠিক ভাবে আয় হয় না।

অস্পষ্ট কণ্ঠে চপলা বলেন, শীতে খুব কষ্ট হয়। রাতে ঘুম আসে না। সারা গায়ে ব্যথা ভরে যায়।

স্থানীয়রা জানান, শীত মৌসুমে এই মা ও ছেলে অনেক অসহায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়লেও তাদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা খুবই সীমিত। নিয়মিত শীতবস্ত্র বা পুনর্বাসন সহায়তা না থাকায় তাদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সুজয় বিশ্বাস বলেন, সরকারিভাবে যা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দ পায় সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করি এবং ইউনিয়ন পরিষদে বাজেট সীমিত। এবং আমি সবসময়ই তাদের খোঁজ খবর রাখি তারা দুজন এখানে বসবাস করছেন এবং মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের থাকার সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যা সমাধানে আমরা এরকম হতদরিদ্রদের তালিকা করে জমা দিবো উপজেলা প্রশাসনের কাছে।প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যাতে তারা একটি ভালো জায়গায় সুস্থভাবে বসবাস করতে পারেন। একই সঙ্গে শীত নিবারণের জন্য আমরা তাদের দুটি কম্বল দিয়েছি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহযোগিতাও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে করা হবে।